২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু। ছবি: এএফপি
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, লোহিত সাগর উপকূলের সৌদি শহর ইয়ানবুর দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ছাড়াও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন ধ্বংসের কথাও জানিয়েছে জোটটি।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বিমানবন্দর চত্বরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। এ ঘটনার জন্য ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে তারা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলা। তবে হুতিরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় কেউ হতাহত হননি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পড়ার সময় ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ কায়রোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানিয়েছে এডেনের নিরাপত্তা বিভাগ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য, লোহিত সাগরের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও রিয়াদ অঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হামলার জন্য কারা দায়ী, তা জানায়নি জোটটি।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে শহরটি সৌদিকে সুযোগ করে দেয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবহায় সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। এর আগে জিজান অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে লড়াই ফের শুরু হওয়ার পর থেকে এসব সতর্কতা নিয়মিত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শনিবার ভোরে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাদা শহরের পূর্ব দিকে হামলার খবর জানায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, ওই এলাকায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে লড়াইয়ের কারণে দেশটির মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সহায়তা সংস্থাগুলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এ বছর পর্যন্ত টিকে ছিল।
সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। এর মধ্যে এডেন বিমানবন্দর ও অন্তর্বর্তী রাজধানীর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদও রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার দাবি করেন, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাত বৃদ্ধির পর সৌদি ‘আগ্রাসনে’ ১২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩২৭ জন আহত হয়েছেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি।
