Published on
:
1 min read
সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
বাবলা গাছের আঠা থেকে বানানো প্রাকৃতিক রংয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। দুর্গার শাড়ি থেকে তাঁর পুত্রকন্যাদের সজ্জা, সবই রেশমগুটি থেকে তৈরি সিল্কের। আলোকসজ্জাতেও নেই তাপবিদ্যুৎ, ব্যবহার করা হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এ ভাবেই পরিবেশ-বান্ধব উপাদান দিয়ে 'সাস্টেনেবল' শারদোৎসব পালিত হচ্ছে পুরুলিয়ার ভাড্ডি গ্রামে।
কথিত আছে, যুদ্ধ জয় করার জন্য শরতে দেবী মহামায়ার অকালবোধন করেছিলেন রামচন্দ্র। সেই সময়ে পুজো করতে যা কিছু প্রাকৃতিক বস্তু, সেই সবই ব্যবহার করেছিলেন তিনি। অনেকটা সে ভাবেই পুজো হচ্ছে জয়পুর ব্লকের ভাড্ডি গ্রামে। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে এ বার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রোটারি আন্তর্জাতিক জেলা ৩২৯১-এর সহযোগিতায় হচ্ছে এই অভিনব পুজো।
বাসিন্দারা জানালেন, কয়েক মাস আগে ঠিক হয়েছিল, এ বার এখানকার পুজো হবে সেই অকালবোধনের যুগের অনুকরণে। এ প্রসঙ্গে সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান সুব্রত রাহা বললেন, 'এখানে প্রতিমার রংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে খড়িমাটি, সিঁদুর বীজ, রিঠা, তুঁতে ও হলুদের মতো প্রাকৃতিক উপাদান। অলঙ্কারও তৈরি হয়েছে সুতো, মাটির মতো জিনিস দিয়ে।'
রোটারির 'সাস্টেনেবল' দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা সুমন গুহ বললেন, 'এই পুজোকে প্রকৃতি-বান্ধব করার জন্য প্রতিমা গড়ার ক্ষেত্রে সিন্থেটিক রংয়ের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায় না, এমন পদার্থকে বাদ দেওয়া হয়েছে।' তিনি জানালেন, ভাড্ডি গ্রামের পুজোয় যে ফুল ব্যবহার করা হবে, তাও জলে না-ভাসিয়ে রূপান্তরিত করা হবে জৈব সারে। এ ছাড়া মণ্ডপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করার জন্য বহু টন কয়লার কার্বন নিঃসরণও কমানো যাবে।
ভাড্ডি মুকুন্দ স্মৃতি সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক শ্রী চিন্ময় কুমার বললেন, 'এ বার ২৫ বছর এই পুজোর। সম্পূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব করা হয়েছে পুজোকে। দেবীর মূর্তি থেকে মণ্ডপ সবই পরিবেশে সম্পূর্ণ ভাবে মিশে যাবে, এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি।' তিনি জানালেন, প্রসাদে চিনি বর্জন করা হয়েছে। প্যাকেটের দুধও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিসর্জনেও পরিবেশের যাতে ক্ষতি না-হয়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
