বিওএর নির্বাচন, পদ বণ্টন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঘিরে প্রশ্ন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পদত্যাগের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টদের একাংশের প্রশ্ন, বিওএর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
ক্রীড়াঙ্গনে সংস্কারের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জোবায়দুর রহমান রানা। সদস্য ছিলেন ইমরোজ আহমেদ। ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনপদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দল পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব ছিল কমিটির। পরে দুজনই বিওএর নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন।
সংস্কার-সুপারিশের পর বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটির প্রতিনিধিদের অনেকে বিওএর কাউন্সিলর ও ভোটার হন। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর তালিকায় এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাঁরা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিতে নেই। এতে বিওএ ও ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদের দাবি জানিয়েছেন।
পদ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অলিম্পিক ও নন-অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্ধারিত উপমহাসচিব পদে নির্বাচনে হেরে যান আর্চারি ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলো। পরে তাঁকে বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। সরকারি আদেশে (জিও) নাম না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এশিয়ান গেমসে পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনও সমালোচনার মুখে। ইমরোজ আহমেদ এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন ছিলেন। এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে শেফ দ্য মিশন সাইফুল ইসলাম প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরে আসেন। পরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব সামলান ইমরোজ।
বিওএর কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের আর্থিক দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরামের নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, শতকোটি টাকার তহবিল ব্যবস্থাপনায় যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে সাইফুল কোনো ফেডারেশনের দায়িত্বে না থাকায় তাঁর জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা জরুরি।
পদত্যাগের ঘটনা এবং এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। তাঁর বক্তব্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিওএ সভাপতির উচিত নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক সফরে কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
