সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিবছর এই উৎসব ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপ্রীতিকর কিছু খবর সামনে আসে। কিছু ঘটনার সত্যতা থাকলেও বেশি ছড়ায় গুজব ও অপপ্রচার। উৎসব তখন হয়ে ওঠে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবারের পূজায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকানোয় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত একটি অ্যাপের মাধ্যমেও তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলেও জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পূজার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা ও উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ায় সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পরবর্তীসময়ে- এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ টিম প্রস্তুত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুর্গাপূজা টার্গেট করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, পূজা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর ও অন্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এসব পূজামণ্ডপে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
বিজ্ঞাপন
‘কোনো আশঙ্কা বা শঙ্কা দেখছি না’
দুর্গাপূজা ঘিরে আমি কোনো আশঙ্কা বা শঙ্কা দেখছি না। বরং অন্য বছরের তুলনায় এবার অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। সংখ্যাও বেড়েছে। সব পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে পূজার উৎসব শুরু হয়ে গেছে।-বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের কথা বলা হলেও বাহিনীগুলোর তৎপরতায় বেশ খানিকটা স্বস্তির কথা প্রকাশ করছেন সনাতনী নেতারা। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা ঘিরে আমি কোনো আশঙ্কা বা শঙ্কা দেখছি না। বরং অন্য বছরের তুলনায় এবার অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। সংখ্যাও বেড়েছে। সব পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে পূজার উৎসব শুরু হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘দু-চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো ঘটেছে, সরকার এগুলোর ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে, সামনে আরও নেবে। আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনও সংগঠিত। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই এই পূজার উৎসবে অংশ নেবে, আনন্দ ভাগাভাগি করবে। আমার মনে হয় এবার খুব ভালোভাবেই পূজার উৎসব উদযাপন হবে। সরকারও এ ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কেউ প্রতিমা ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারও এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে আশাবাদী।’
বিজ্ঞাপন
পূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কোথাও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে সেটিকে নিজেদের মধ্যে বিরোধ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
কিছু জায়গায় হামলায় উদ্বেগ, শাস্তি নিশ্চিতের দাবি
দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, চুরি ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পূজার সময়ও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ।-বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীদ্র কুমার নাথ
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীদ্র কুমার নাথ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, চুরি ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পূজার সময়ও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।’
এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গতকাল (রোববার) আইজিপির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। কিছু ঘটনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
নজরদারিতে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার
সারা দেশে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসআরবি সারাদেশে বহুমুখী ও কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। সব ব্যাটালিয়নকে স্থানীয় পূজা কমিটি, সিভিল প্রশাসন ও অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যে কোনো প্রকার নাশকতা বা অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পূজামণ্ডপ এবং মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজা কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পূজামণ্ডপ এবং মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজা কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিজ্ঞাপন
২৪ ঘণ্টার নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম ও সার্বক্ষণিক সেবার জন্য হটলাইন চালু রয়েছে। পূজামণ্ডপের সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ নির্দেশনা, মণ্ডপকেন্দ্রিক নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরবাইক রোবাস্ট পেট্রোলিং ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো ধরনের গুজব/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছে। যারা সাইবার জগতে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে বিশেষ নজরদারির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
গোয়েন্দা নজরদারিতে অনেকে
দুর্গাপূজার উৎসব নিরবচ্ছিনভাবে পালনে ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং অন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবকে কেউ বিনষ্ট করতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রতিহত করবে।-ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুর্গাপূজার উৎসব নিরবচ্ছিনভাবে পালনে ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং অন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবকে কেউ বিনষ্ট করতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রতিহত করবে।’
সজাগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ আইজিপির
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সভায় আইজিপি বলেন, পূজা কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
আইজিপি দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।
নির্বাচনে ব্যবহৃত অ্যাপে হবে নজরদারি
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারা দেশের পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১৫০০টির বেশি বাড়ছে। এছাড়া দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নির্বাচনকালে ব্যবহৃত এনটিএমসির একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপ ব্যবহারের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালে ব্যবহৃত ওই অ্যাপটি এবারও কাজে লাগানো হবে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো মণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত তা জানা যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই অ্যাপটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিটি/কেআর/এএসএ/ এমএফএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
