দুই দশক ধরে কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছেন এমন দুজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হলে যদি খনি এলাকায় বিপুল মানুষের বসবাস, কৃষি জমি থাকে কিংবা পরিবেশগত ইস্যু থাকে, সেক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের কয়লা উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। তবে সেক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তুসংস্থানের ব্যবস্থাপনা। বিশেষত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে (ওপেন পিট মাইনিং) কয়লা উত্তোলন করতে খনি এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন; কৃষি জমি, সুপেয় পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশগত-বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব সমন্বয়ের মতো জটিলতা সামনে আসে। এসব বিষয় সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করে নিজস্ব খনিজ সম্পদ ব্যবহারে কীভাবে সামনে এগোনো যায়, সেটিই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে খোদ সরকারের সংশ্লিষ্টরা।
দেশে মোট পাঁচটি কয়লা খনিতে ৭৮০ কোটি টনের মতো কয়লা মজুদ রয়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম ১৩৬ ডলার ধরলে এ পরিমাণ কয়লার মূল্য (বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লার টন হিসাবে) ১ লাখ ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩০ লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ কয়লা উত্তোলন করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপির আকারও বড় হবে।
দেশে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া ছাড়া বাকি চারটি খনি থেকে কোনো ধরনের কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম, বিপুল আমদানি ব্যয় ও আমদানিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কয়লাসম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় স্থানীয় জ্বালানি ব্যবহার করা গেলে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশই কয়লা ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেকে এরই মধ্যে বাড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন। দেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিপর্যয়, কৃষি জমির ক্ষতি ও বিপুল পরিমাণ মানুষের স্থানান্তরের বিষয়গুলো সামনে আনে পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন মহল। তবে অনেক মাইনিং বিশেষজ্ঞের মতে, ঘনবসতি কিংবা কৃষি জমি আছে এমন কোনো এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। সেক্ষেত্রে খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে ভুক্তভোগীদের স্থানান্তর, ক্ষতিপূরণ, তাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সেটিই বিবেচ্য বিষয়।
কয়লা উত্তোলনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গেলে কীভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে বোঝাপড়া হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া কীভাবে সামলানো হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
দুই দশক ধরে কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছেন এমন দুজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হলে যদি খনি এলাকায় বিপুল মানুষের বসবাস, কৃষি জমি থাকে কিংবা পরিবেশগত ইস্যু থাকে, সেক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিত হবে। প্রথমত, সামাজিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ কয়লা উত্তোলন বিষয়ে বিস্তারিত স্থানীয়দের সঙ্গে শেয়ার করা। যেখানে স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা, সুবিধা, ভবিষ্যৎ প্রজম্মের বিষয়গুলো অগ্রাধিকারভুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, রিসেটলমেন্ট ওয়ার্ক অর্থাৎ যাদের জমি খনিতে ব্যবহার হচ্ছে, তারা কীভাবে এ প্রকল্প থেকে সুবিধাভোগী হবেন, তাদের ক্ষতিপূরণ ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কিনা কিংবা তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট কিনা সে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, মাইনিং ওয়ার্ক—এ পর্যায়ে কীভাবে খনন কার্যক্রম শুরু হবে, কীভাবে খনির উন্নয়ন হচ্ছে—সব ধরনের মূল্যায়ন বিবেচনায় নেয়া।
তাদের মতে, সরকার স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে সিদ্ধান্ত নিলে একটি সমন্বিত কমিটি করতে হবে। এ কমিটিতে নীতিনির্ধারক, সরকারের আমলা, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে, কয়লা উত্তোলনে যাওয়ার আগে শুরুতে যে সমীক্ষার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সরকার পর্যালোচনা করাতে পারে। এমনকি আগের সমীক্ষায় যদি কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকে সেগুলোও পর্যালোচনা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকার বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি হ্রাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে জোর দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি প্রাথমিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে বলে খনিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগে যেসব সমীক্ষা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কয়লা উত্তোলনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও ঝুঁকি নিতে হবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলে নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রয়োজন। আমি মনে করি, আমাদের কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থাপনাটা ভালোভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ, যার কোনো স্বার্থ নেই, এ রকম কাউকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। তারা যদি বলে যে এটার ঝুঁকি সীমিত আকারে এবং সে ঝুঁকি সামলানো সম্ভব হবে, কোনো সমস্যা হবে না, তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আর যদি বলে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাহলে আমরা দেশীয় কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে পারি। ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জকে ভয় পেলে চলে না। পৃথিবীর কোনো বড় প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয়নি।’
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড ও পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুলবাড়ী কয়লা খনি ১০ হাজার একর জায়গাজুড়ে। এখানে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। খনির জন্য প্রয়োজন হবে ৪৮ বর্গকিলোমিটার জায়গা। তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর সরকার দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে ২২ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ বিলিয়ন ডলার। খনিতে উত্তোলন শুরু করা গেলে শুধু ফুলবাড়ী থেকে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা পাওয়া যাবে। আর বড়পুকুরিয়া নর্থ থেকে আরো ছয় মিলিয়ন টন, দিঘিপাড়া থেকে আরো তিন মিলিয়ন টন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এ তিন খনি থেকে বছরে ২৪ মিলিয়ন টন কয়লা পাওয়া যাবে। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পর খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা সাত হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত ৯৫ শতাংশ কয়লাই আমদানি হয়। এ কয়লার প্রধান উৎস দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ভূমিকম্পের মতো কোনো বিপর্যয় তৈরি হলে কয়লা রফতানি ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দূরবর্তী কোনো দেশ থেকে কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে হতে পারে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
নিজস্ব কয়লাসম্পদ ব্যবহারে এরই মধ্যে দেশের পাঁচটি খনির সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়েছে। ৪ অক্টোবর ওই উপস্থাপনায় বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দিঘিপাড়ার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে বৃহৎ কয়লা খনি জামালগঞ্জের সমীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এসব কয়লা খনির বিষয়ে প্রতি মাসে কী ধরনের অগ্রগতি হচ্ছে তার ফলোআপ দিতেও নির্দেশনা দেয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে দেয়া কিংবা ব্যবহার বন্ধ ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করলেও অনেক দেশ এখন সিদ্ধান্ত বদল করেছে। ইতালি কয়লা ব্যবহার বন্ধের পরিকল্পনা এক দশকের বেশি সময় পিছিয়ে দিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস গত মার্চে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আরো দীর্ঘ সময় চালু রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এশিয়ায় অনেক দেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো শুরু করেছে। জাপান কম দক্ষ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় উৎপাদনে আনার অনুমতি দিয়েছে। যদিও দেশটি বিভিন্ন দেশে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অবকাঠামোয় ঋণ ও বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়াও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা তুলে নিয়েছে এবং তা বন্ধ করার পরিকল্পনা পিছিয়েছে। থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে যদি কয়লা উত্তোলন করতেই হয়, সেক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই যেতে হবে এবং সেটা সীমিত কিংবা মাঝারি আকারে হতে পারে। আমরা জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা বলছি, সেটা অবশ্যই ভালো দিক। সেক্ষেত্রে কয়লা উত্তোলন করে যদি আমদানির চাপ কমানোর পরিকল্পনা হয়, সেক্ষেত্রে কৃষি জমি, সুপেয় পানি, পরিবেশগত জটিলতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ফলে সে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা যায় সেটার সব ধরনের সমীক্ষা বিবেচনায় নিতে হবে।’
দেশের কয়লাসম্পদ উত্তোলনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের নিজস্ব কয়লা খনিগুলোর অবস্থা, উত্তোলন পরিস্থিতি ও আর্থিক সাশ্রয়সহ নানা বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে একটি প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছে। সেখানে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া ও জামালগঞ্জের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।’
কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে গতকাল মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমান জ্বালানি সংকটে নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে কয়লা বড় বিকল্প হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কয়লা ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। ভূগর্ভস্থ কয়লাসম্পদ ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন সময় সমীক্ষা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। পেট্রোবাংলা বড়পুকুরিয়া ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাব্য কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছে।’
