১৮ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১৮ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
কোনো টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মুখে শোনা যায় ট্রফি জয়ের স্বপ্নের কথা। বিশ্বকাপ হোক কিংবা এশিয়া কাপ, লক্ষ্য থাকে বড় কিছু করার। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টানা দুই ম্যাচ হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। এমন ব্যর্থতার পর অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় নিজেই স্বীকার করলেন, ট্রফি জয়ের আকাঙ্ক্ষা সবার থাকলেও কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখাতে পারছেন না তারা।
বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর আফগানদের আটকাতে পারেনি হৃদয়ের দল। ৩৫.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। এর আগে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে টাইগারদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ উঠতেই নিজেদের সীমাবদ্ধতা অকপটে স্বীকার করেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়, ‘যখনই আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। এই ক্ষুধাটা সবার মধ্যেই আছে। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, আমাদের কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’
হৃদয়ের এই স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের এক বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে, বিশেষ করে দেশের মাটিতে ভালো করলেও বহুজাতিক টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বড় আশা নিয়ে অংশ নিয়েছিল দল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আশার প্রতিফলন ঘটেনি।
এবারের ত্রিদেশীয় সিরিজেও একই চিত্র। জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সামনে শুধু জিতলেই চলত না, ফাইনালের সমীকরণও মেলাতে হতো। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে শুরুতেই অনেকটা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা।
হৃদয়ও ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে ব্যাটসম্যানদেরই দায়ী করেছেন। নির্দিষ্ট কোনো বিভাগকে আলাদা করে দোষ দিতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা আড়াল করেননি তিনি, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনো জায়গার দিকে আঙুল তুলতে চাই না। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। শেষ দুই ম্যাচে আমরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছি। আর সে কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হয়েছে।’
লিটন দাসের চোটে এই সিরিজে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া হৃদয় অবশ্য মনে করেন না, এক বা দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই দলের সামগ্রিক অবস্থা বিচার করা উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজের চারটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টাইগাররা। তবে জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে হারের মুখ দেখতে হয় তাদের।
ঘরের মাঠের সাফল্য আর বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার এই পার্থক্যই ভাবাচ্ছে হৃদয়কে, ‘এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজের ভিত্তিতে দলের কী হয়েছে, সেটা বলতে চাই না। দল ভালো অবস্থাতেই আছে। তবে আমি আগেও বলেছি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে আমাদের ব্যাটিং খুবই খারাপ হয়েছে, সেটা স্পষ্ট।’
ঘরের মাঠে ব্যাটসম্যানদের ভালো করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হৃদয় বলেন, ‘দেশে যখন খেলেছি, আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে। কিন্তু দেশের বাইরে যেসব জায়গায় আমরা সমস্যায় পড়ছি, সেগুলোতে অবশ্যই উন্নতি করতে হবে।’
বিশেষ করে ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারাকে বড় দুর্বলতা মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দেশের বাইরের কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দিনে আমরা বেশির ভাগ ম্যাচই দেশের বাইরে খেলেছি। এই জায়গায় উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে।’
ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আগামী বছর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপকে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন হৃদয়। তবে শুধু ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিলেই যে চলবে না, সেটিও বুঝতে পারছেন তিনি, ‘সত্যি বলতে, ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে বসতে হবে, দলকে ভালো একটা অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আশা করি, আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’
