বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর পঞ্জাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের তরফে প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে পঞ্জাবে যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ১ লক্ষ ৭২৭।
এসআইআর পর্ব শুরুর আগে পঞ্জাবের ১১৭টি বিধানসভা এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৩ জন। ঝাড়াইবাছাইয়ের পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৩১৬ জনের নাম। শতাংশের হিসাবে ৬.৩৩। গত ১৩ অগস্ট পঞ্জাবে এসআইআরে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় নাম ছিল ১ কোটি ৯৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৪৩৫ জনের। চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা কিছুটা বাড়ল। পঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনিন্দিতা মিত্র জানান, চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় আট লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে।
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই ভোটের আগে ওই রাজ্যে এসআইআর করে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হল। ১৪ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পঞ্জাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার কথা জানানো হয়। ২৫ জুন থেকে সে রাজ্যে শুরু হয় এসআইআর। প্রাথমিক পর্বের ঝাড়াইবাছাই শেষে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া বা দু’জায়গায় নাম থাকা ভোটারদের নাম। ১৩ অগস্টের পর থেকে শুরু হয় সেই সব আবেদনের শুনানি এবং নিষ্পত্তির কাজ। ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া চলে। তার চার দিনের মাথাতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। সে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের অফিস সূত্রে খবর, এসআইআর পর্বে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৮৬ হাজারের নাম অযোগ্য বলে বাতিল করা হয়েছে।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দিল্লির রাজপথে নামছে বিরোধী শিবির। সোমবারও ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ কর্মসূচি করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। মামলাও হয়। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে আম আদমি পার্টি না থাকলেও, গত শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযানে যোগ দিতে যাওয়ার আগে গ্রেফতার হন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। তাঁর দল এখন পঞ্জাবের মসনদে। এসআইআর বিক্ষোভের আবহে সেই পঞ্জাবে প্রকাশিত হল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
