Published on
:
2 min read
এই সময়: কেউ চান, ব্যবসার অনুমতি। কারও দাবি, প্রতিবাদের অধিকার। আবার কেউ বলছেন, আইন–শৃঙ্খলা রক্ষা তো করতেই হবে!দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার লিস্টে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) বাতিলের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির কনৌট প্লেসে সেন্ট্রাল পার্কে প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। এর প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ওই পার্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশের ফলে সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে— এই যুক্তিতে সেখানকার ব্যবসায়ী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিল। তবে এই ধরনের একটি বিষয়ের সঙ্গে যে হেতু বিভিন্ন পক্ষের বিভিন্ন রকম দাবিদাওয়া রয়েছে— তাই শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ জারি করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।
ব্যবসায়ীদের দু’টি সংগঠন ‘দিল্লি কিরানা কমিটি’ ও ‘দিল্লি আয়রন অ্যান্ড হার্ডওয়্যার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’–এর তরফে মামলাটি এ দিন মেনশন করা হয়। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, এক দিনের বিক্ষোভের জন্য কনৌট প্লেস মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অন্তত দুশো কোটি টাকার ব্যবসা মার খাচ্ছে। শুনানি চলাকালীন সিজেআই কান্ত জানান, এই ধরনের ঘটনা বহু পরিবারের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব ফেলে।
সিজেআইয়ের কথায়, ‘আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমরা এটা বুঝি যে, বিশেষ করে ছোট দোকানদারদের এই ক’দিন ভালো উপার্জন হয়। আমরা এটাও অনুধাবন করি যে, এর ফলে এই সব পরিবারের সদস্যদের বহু দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’ এর সূত্র ধরে বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘কেউ প্রতিবাদ জানাতে চান। কেউ চান বাদাম বিক্রি করতে। কেউ আবার আইন–শৃঙ্খলার কথা বলছেন। এগুলো সবই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিইসি–র অপসারণ ইস্যুতে যে ভাবে আন্দোলন–প্রতিবাদ–ধর্না চলছে রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে, তাতে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় মামলাকারীদের তরফে। গত ১০ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন থেকে ধরলে এখনও প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ব্যবসা মার খেয়েছে বলেও আদালতে দাবি করে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলি। তারা মূলত তিনটি দাবি তুলে ধরেছে। প্রথম— যেন কোনও আন্দোলন বা ধর্নার জেরে দিল্লির ব্যবসায়িক এলাকাগুলি অচল না–করা হয়। দ্বিতীয়— ব্যবসায়িক এলাকা থেকে দূরে যেন প্রতিবাদ–ধর্নার জায়গা নির্দিষ্ট করা হয় এবং তৃতীয়— কী ভাবে আন্দোলনের অধিকার এবং ব্যবসায়ীদের জীবন–জীবিকার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করা।
প্রসঙ্গত, দিল্লির যন্তর মন্তর তল্লাটে প্রতিবাদ–আন্দোলন করা যাবে না বলে গত সোমবারই একটি নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে পুরোনো দিল্লির তিনটি এলাকাকে প্রতিবাদ কর্মসূচির জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেও সুপ্রিম কোর্টে আলাদা মামলা হয়েছে। এ দিনের আর্জি নিয়ে আদালত অবশ্য কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছে সিজেআইয়ের বেঞ্চ। এ দিন সুপ্রিম কোর্টে ব্যবসায়ীদের আর্জি সম্পর্কে সিজেপি–র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য ব্যবসা নষ্ট হয় না। ক্ষতি তখনই হয়, যখন সরকার গোটা শহর স্তব্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে, নাগরিকদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে শহরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।’
