মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার নাবালিকা। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তথা শিক্ষক। ঘটনার যুক্ত অভিযুক্তের স্ত্রীও। মহিলার বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, বিষয়টি কাউকে জানালে নাবালিকাকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক। তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হতেই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ঢাকার উপজেলা সাভারে। রাজধানী শহর থেকে কিছুটা দূরে বছর ১৩-র এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মহম্মদ আবদুল বারির (৫০) বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বুধবার সকালে মাদ্রাসায় অভিযুক্ত নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানতে পারে অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহও। অভিযোগ, ঘটনার কথা জানার পর প্রতিবাদ বা পুলিশকে জানানো দূর বিষয়টি কাউকে জানালে নাবালিকাকে খুনের হুমকি দেয় মহিলা। মাদ্রাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করিয়ে ছাত্রীটিকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ।
সন্ধ্যা নাগাদ নির্যাতিতা মাদ্রাসার রান্নার কাজে নিযুক্ত এক মহিলার সাহায্যে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে আসে। নাবালিকা তার দাদাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা ওই রাতেই মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে। অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠছে। রাতে মাদ্রাসা এবং অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আসে বিরাট পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ও তার ছোট ছেলেকে থানায় নিয়ে যায় যাওয়া হয়। পরে মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, “নির্যাতিতা ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় আবদুব বারির স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত পলাতক। খোঁজে তল্লাশি চলছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।” এদিকে মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
