এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের ক্লাব ফর্টিজ এফসি। তাজিকিস্তানের শক্তিশালী ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। তবে ম্যাচটিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের এই ক্লাবটির।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ফর্টিজ। দ্বাদশ মিনিটে এনদোঙ্গো ফোয়ের দারুণ এক ফ্লিকে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফর্টিজের মুনির আলমকে কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রেগারের শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। ফর্টিজের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা অফসাইড ও বাধার আবেদন করলেও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে ১৭তম মিনিটে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজেদের ডিফেন্ডার মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাকপাস পেয়ে বক্সে ঢুকতে যাওয়া ফর্টিজের নোরিকি আকাদাকে বক্সের বাইরে ফাউল করেন রেগার গোলরক্ষক সেভেরিন তাকাম। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর রেগারের বদলি গোলরক্ষক শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদা নেমে পা ওমরের বাঁকানো ফ্রি-কিক দক্ষতার সঙ্গে ফিরিয়ে দেন। একজন বেশি নিয়ে খেলায় আক্রমণের ধার বাড়ায় ফর্টিজ এবং ৩৫ মিনিটে আকাদা সহজ সুযোগ মিস করলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার মাঠে নামান জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে। তাঁর মাঠে নামার পরই খেলায় গতি বাড়ে এবং চার মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে ফর্টিজ। সুকিকে থামাতে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়লে ফিরতি বল পেয়ে যান পা ওমর; তিনি বল বাড়ান রাফায়েল টুডুকে। টুডু দুর্দান্ত এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে সমতায় ফেরান। এর চার মিনিট পরই অর্থাৎ ৭১তম মিনিটে এগিয়ে যায় ফর্টিজ। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মাপা ক্রসে অনন্ত তামাং হেড করে বল দেন শিয়ান কাওয়াসাকিকে, যিনি নিখুঁত ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ২-১ করেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে পা ওমরের পাস থেকে সুকি চমৎকার এক সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে বল জালে জড়ালে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় ফর্টিজের।
চমৎকার এই প্রত্যাবর্তনের পরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশি ক্লাবটিকে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগার উভয়েরই পয়েন্ট দাঁড়ায় তিন এবং দুই দলের গোল ব্যবধানও সমান (-২)। কুয়েতের ক্লাব আল কাদসিয়া ইতিমধ্যে ৬ পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপসেরা হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে অন্যান্য গ্রুপের (গ্রুপ এ ও বি) রানার্সআপ দলগুলোর পয়েন্ট তিনের চেয়ে বেশি থাকায় সেরা রানার্সআপ হিসেবেও নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় ফর্টিজের। ফলে সান্ত্বনার জয় নিয়েই এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মিশন শেষ করতে হলো মাসুদ পারভেজ কায়সারের শিষ্যদের।
