কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়াও নিহতের তালিকায় দুই শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙ্গী এলাকায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানবোঝাই ট্রাকটি রৌমারী থেকে আশুগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ থেকে রৌমারীতে ফেরার পথে কয়েকজন যাত্রী বকশীগঞ্জ বা শেরপুর এলাকা থেকে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন। পথে শিবেরডাঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাকটি উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রৌমারী উপজেলার চতলাকান্দা এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রিশাদ (১২), মেয়ে তুবা (৭) ও স্ত্রী লিপি খাতুন। এ ছাড়া কর্তিমারী এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরীফা খাতুন (৪৬) এবং অটোরিকশাচালক নিহত হন। লিপি ও শরীফা আপন বোন। অটোরিকশাচালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনায় আহত বৃষ্টি খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহত ও নিহতদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও রৌমারী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেল কবির জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত অটোরিকশাচালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলীও দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
