কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বারবান্দা গ্রামে শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে মাদকাসক্ত ভাতিজার এলোপাতাড়ি লোহার শাবলের আঘাতে সোনা বানু (৪৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এই নৃশংস হামলায় পরিবারের আরও তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা ঘাতক ভাতিজাকে হাতেনাতে আটক করে রজ্জু দিয়ে বেঁধে রাখেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। নিহত সোনা বানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফারুক হোসেন (৪০) সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কখনো মায়ের কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন, আবার কখনো চাচার কাছে বসতভিটার জমির দলিল চেয়ে তাণ্ডব চালান। পরিবারের সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। একপর্যায়ে ঘর থেকে একটি ভারী লোহার শাবল এনে তিনি পরিবারের লোকজনের ওপর চড়াও হন এবং নির্বিচারে আঘাত করতে থাকেন। তার তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চাচি সোনা বানু।
এ ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন— মমিনা খাতুন (৩০), জোসনা খাতুন (২৬) এবং খলিলুর রহমান (৪৭)। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত ফারুক হোসেন প্রথমে তার নিজের ছেলে টিটু ও মা জামিরন বেগমকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাদের চিৎকার শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
