তিন কারণেই খুন হন রূপসা উপজেলার দুর্জনীমহল গ্রামের জয় ঢালী। থানায় দায়েরকৃত মামলার কার্যক্রম চিরতরে স্তব্ধ করে দিতেই ছেলে হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিন পর বাবা আক্তার ঢালীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ছয়জন আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন জনকে আসামি করেন।
পুলিশ ও এলাকার কয়েকটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ৫-৬ বছর পূর্বে দুর্জনীমহল গ্রামের মেয়ে তিন্নীরের সাথে প্রেমজ সম্পর্কে বিয়ে হয় জয় ঢালীর। বিয়ের পর হতে শ্বশুর বাড়ির সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না। স্ত্রীর উপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরবর্তীতে জয় ঢালী তিন্নীর সাথে যোগাযোগ শুরু করে। এক পর্যায়ে তিন্নী সংসার করতে রাজি হলে তারা পুনরায় বিয়ে করে। ২০২৩ সালে তিন্নীর ফুপাতো ভাই রফিকুল ইসলাম হৃদয়কে জয় ঢালী ও তার সহযোগীরা দুর্জনীমহলে ফেরার পথে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। সেও এ হত্যাকাণ্ডের অংশ বিশেষ বলে সূত্রটির দাবি।
সূত্রটি আরও জানায়, উপজেলার ১ নম্বর আইচগাতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগ সভাপতি আশরাফুজ্জামান বাবুলের সাথে তার এক সময় সু সম্পর্ক ছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে দলীয় ভোল পালটিয়ে সে বিএনপি’র সহযোগী সংগঠনে যোগ দেয়। যা এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভাল চোখে দেখেনি। তাছাড়া স্থানীয় ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য মেম্বর প্রার্থী মনজিলের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ায় সে।
সূত্রটি আরও জানায়, জয় ঢালী মাদকাসক্ত ছিল। মাদক কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল সে। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সাথে আইচগাতি এলাকায় মাদক কারবারের লেনদেন ছিল তার। মাদক সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে ওই সক্রিয় সদস্য জয় ঢালীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এছাড়া এলাকায় চাঁদাবাজিসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ তিন কারণে ১৫ আগস্ট রাত সোয়া ৯টায় উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড়ে চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে ও গুলি করে হত্যা করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এজাহারনামীয় রাকিবুল ইসলাম হৃদয় ও হাফিজ শেখ এবং সন্দেহভাজন আসামির মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। তাছাড়া কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অগ্রিম জামিন নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জয় ঢালী হত্যা মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা অনাবরত হুমকি দেয় বাবা আক্তার ঢালীকে। মামলাটির কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য ছেলে হত্যার ৫০ দিন পর বাড়ির অদূরে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার জাহিদ বলেন, আক্তার ঢালী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শনিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে তিনি ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আমরা আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টায় আছি।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, রূপসা উপজেলা পল্লীতে বাবা-ছেলে হত্যাকাণ্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলা। এ মামলা দুটির আসামি গ্রেপ্তারসহ হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। অচিরেই প্রকৃত আসামিরা গ্রেপ্তার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে
