গাড়ির ড্যাশবোর্ডে জ্বালানির পরিমাণ দেখানোর মিটারের পাশে থাকা ছোট্ট একটি তীরচিহ্ন অনেক চালকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। অথচ এই চিহ্নই বলে দেয়, গাড়ির জ্বালানি ভরার মুখ কোন পাশে। বিশেষ করে অপরিচিত গাড়ি চালানোর সময় পেট্রল পাম্পে গিয়ে ভুল পাশে দাঁড়িয়ে পড়ার ঝামেলা এড়াতে এটি বেশ কাজে আসে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুয়েল গেজে থাকা তীরচিহ্নটি চালককে গাড়ির জ্বালানি ভরার মুখের অবস্থান জানিয়ে দেয়। চিহ্নটি বাঁ দিকে নির্দেশ করলে গাড়ির বাঁ পাশে এবং ডান দিকে নির্দেশ করলে ডান পাশে জ্বালানি ভরার মুখ রয়েছে।
ছোট্ট চিহ্নের পেছনে রয়েছে মজার ইতিহাস
ফুয়েল গেজের পাশে থাকা এই তীরচিহ্নের প্রচলনের পেছনে রয়েছে গাড়ির নকশাবিদ জেমস ময়লানের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। ১৯৮৬ সালে একদিন বৃষ্টির মধ্যে কোম্পানির গাড়ি নিয়ে জ্বালানি ভরতে গিয়ে তিনি ভুল পাশে গাড়ি থামান। পরে অফিসে ফিরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে একটি প্রস্তাব দেন। তার ধারণা ছিল, ড্যাশবোর্ডে ছোট্ট একটি তীরচিহ্ন থাকলে চালক সহজেই বুঝতে পারবেন, গাড়ির জ্বালানি ভরার মুখ কোন দিকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোর্ডের এই প্রস্তাব অনুমোদন পায় এবং ১৯৮৯ সালে ফোর্ড এসকর্ট ও মার্কারি ট্রেসার মডেলে তীরচিহ্নটির ব্যবহার শুরু হয়। পরে এটি বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মডেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
কেন কাজে লাগে এই তীরচিহ্ন?
নিজের গাড়ি নিয়মিত চালালে জ্বালানি ভরার মুখ কোন পাশে, তা সাধারণত মনে থাকে। কিন্তু ভাড়ার গাড়ি, বন্ধুর গাড়ি কিংবা নতুন কেনা গাড়ি চালানোর সময় বিষয়টি ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
এমন পরিস্থিতিতে পেট্রল পাম্পে ঢোকার আগেই ড্যাশবোর্ডের দিকে একবার তাকালেই জানা যায়, কোন পাশে গাড়ি থামাতে হবে। এতে ভুল পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পরে আবার সরানোর ঝামেলা কমে। ব্যস্ত পেট্রল পাম্পে সময়ও বাঁচে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই তীরচিহ্ন জ্বালানির পরিমাণ, গাড়ি কত দূর চলতে পারবে কিংবা কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে— এসব তথ্য দেয় না। এর কাজ শুধু জ্বালানি ভরার মুখের অবস্থান নির্দেশ করা।
গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা ছোট্ট এই চিহ্ন তাই নিছক নকশার অংশ নয়; বরং চালকের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা সহজ করার জন্য তৈরি একটি কার্যকর সুবিধা।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস।