ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশে বসবাসকারী এক মেয়ে ও তাঁর স্বামী। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে এ মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়াপোতা পোস্টের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জায়রা (৭০) বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা তাঁর মেয়ে হাফিজা খাতুন ও জামাতা ফিকির আলি শেষবারের মতো মরদেহ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে সীমান্তের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই দেশের বাহিনীর সমন্বয়ে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা বিওপির বিজিবি টহল কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজন বিজিবি সদস্য এবং ভারতের বিএসএফের ইন্সপেক্টর এস কে রায়সহ পাঁচজন সদস্যের উপস্থিতিতে ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে শূন্যরেখায় মরদেহটি স্বজনদের দেখানো হয়।
মরদেহ দেখার সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উপস্থিত বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরাও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে পেরে বিজিবি ও বিএসএফের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হাফিজা খাতুন ও তাঁর স্বামী ফিকির আলি।
মরদেহ দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভারতের নিজ গ্রামে জায়রার দাফন সম্পন্ন হয়।
এমএ
