প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় একটি বসতঘরে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) বড়লেখা থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর রাতে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকার সিএনজিচালক জসিম উদ্দিনের বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এ ঘটনায় পরদিন, ১৯ অক্টোবর, ভুক্তভোগী বড়লেখা থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বড়লেখার দোহালিয়া গ্রামের জিল্লুর মিয়া (২৬), আরেঙ্গাবাদ গ্রামের মনির হোসেন (৩৩), পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামের আব্দুল আহাদ (৪৪), দোহালিয়া গ্রামের পারভেজ আহমদ (২৭), জুড়ী উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের সুমন আহমদ (৩৮) এবং সিলেটের জগন্নাথপুর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের সাইদুর রহমান (২৩)।
পুলিশের অভিযানে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি সিলেট মহানগরীর লালদিঘিরপাড় এলাকার একটি জুয়েলার্সেও তল্লাশি চালানো হয়। এসব অভিযান থেকে চুরি যাওয়া ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালংকার বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মালামাল মামলার বাদী শনাক্ত করেছেন। গ্রেপ্তার ছয়জনকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, “চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
