জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ২০২২ সালের নভেম্বরে জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে ঘাটটিকে বিআইডব্লিউটিসির কাছে হস্তান্তর করে।
পদ্মা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে সহজ এ মাধ্যম দিয়ে চলাচলকারী অন্তত ১০ জেলার কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে তাদের ঝুঁকি নিয়ে ও বাড়তি ভাড়া দিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোট যাতায়াত করতে হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে ফেরি চলাচল পুনরায় দ্রুত চালু করা হবে।
জৌকুড়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় ছেড়ে যাওয়া ফেরি ক্যামেলিয়া নাব্য সংকটে মাঝ পদ্মায় আটকা পড়ে। পরে চেষ্টা করেও ফেরিটি নদীর ওপারে যেতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, নাটোরসহ বেশ কয়েকটি জেলার ২০-৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন। যাত্রীরা জানান, পদ্মার চরে বহু চর জেগে উঠেছে। এতে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগেও পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে এ রুটে গত এক মাসে দুই দফায় ১৩ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এজন্য তারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করেন।
তাদের অভিযোগ, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোট পদ্মা পারাপার হতে হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অন্তত ১৬০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু হয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ২০২২ সালের নভেম্বরে জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে ঘাটটিকে বিআইডব্লিউটিসির কাছে হস্তান্তর করে। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রীসেবার মান বাড়েনি, বরং ভোগান্তি বেরেছে। এ অঞ্চলের যাত্রীদের দাবি, দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে ঘাটটি চালু করা হোক।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পদ্মায় তীব্র নাব্য সংকটের কারণে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নাব্য সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
