দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সংবাদপত্রের পাতায় লিখেছেন মানুষের কথা, তুলে ধরেছেন সময় ও সমাজের নানা বাস্তবতা, সেই সাংবাদিকতার জগৎ থেকে চিরবিদায় নিলেন সাংবাদিক সুলতান আহমেদ আশরাফী। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দৈনিক আজাদীর সাবেক সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক সহ-সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ প্রবীণ সাংবাদিক সুলতান আহমেদ আশরাফীর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নগরের দেবপাহাড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কয়েক দিন আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিক নেতারা। জোহরের নামাজের পর বাঁশখালীর মধ্যম সরল বাইতুর রহমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সুলতান আহমেদ আশরাফী দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক আজাদীতে সাংবাদিকতা করেছেন। পত্রিকাটিতে সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেন। সংবাদপত্রের ব্যস্ত কর্মপরিসরে দীর্ঘদিনের পথচলায় সহকর্মীদের সঙ্গে তার গড়ে ওঠা সম্পর্কও ছিল সাংবাদিকতা অঙ্গনের সম্পদ। তার প্রয়াণে সেই অভিজ্ঞতার জায়গায় তৈরি হলো অপূরণীয় শূন্যতা।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সুলতান আহমেদ আশরাফীর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ ও গুণী সাংবাদিককে হারাল। তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও পেশাগত অবদান সহকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে সিইউজে নেতারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান
