ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি তাকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।
গত ২২ অক্টোবর সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিএমএইচে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় অধ্যাপকের চলমান চিকিৎসাপদ্ধতি ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন তিনি। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে সিএমএইচে যান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় তিনিও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাকে অধ্যাপকের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে গেছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি সিএমএইচে ভর্তি হন। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক। দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বৌদ্ধতত্ত্ববিদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত। পালি ভাষা, বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যবিষয়ক অধ্যয়ন ও গবেষণায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি সুপরিচিত।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক লাভ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। চিকিৎসা শেষে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন বলে আশা করছেন তারা।