ডেস্ক রিপোর্ট: দারিদ্র্যের অন্ধকারে থাকা মানুষকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন থেকে শুরু, সেই স্বপ্নকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার দীর্ঘ পথচলা। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ব্যবসার ধারণা প্রতিষ্ঠায় কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি পেলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নিজেই তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দিয়েছেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর ড. ইউনূস বলেন, তাঁর কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি বাংলাদেশের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে। একসময় তিনি উল্লেখ করেন যেসব নারী আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে দূরে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজন তুলে ধরছেন এবং নিজেদের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
একেই সাথে তরুণদের জন্যও ড. ইউনূসের বার্তা স্পষ্ট-‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।’ তার মতে, শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়, বরং সৃজনশীলতা, উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশাবাদও জানান এই নোবেল জয়ী । পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে মন্ত্রণালয়
কেন দেওয়া হয় এই পুরস্কার? সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের নামেই এর নামকরণ - হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ চালু হয় ২০১৪ সালে। নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করে, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের কাজ এ সম্মাননার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পেয়েছেন কঙ্গোর পানজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েগে, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ওয়াই ওয়াই নু, মানবাধিকারকর্মী ও নোবেলজয়ী নাদিয়া মুরাদসহ, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট। ২০২৬ সালে ড. ইউনূসের পাশাপাশি ভারতের স্বনিয়োজিত নারী শ্রমিকদের সংগঠন সেবা- সেলফ এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন-এর পরিচালক রিমা নানাবতী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এই সম্মাননা পেয়েছেন। এ ছাড়া জর্ডানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর প্রধান মুনা সুখতিয়ান পেয়েছেন বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার-১
এদিকে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে সম্মান জানান উপস্থিত অতিথিরা। তাঁর এই স্বীকৃতি ক্ষুদ্রঋণ, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এটিভি/ এম এইচ আই
