স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক আগে থেকেই তৈরি হতে পারে, যদিও শুরুতে এর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত ওজন এসব সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরবর্তী সময়ে স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখাও জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬০ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৪ কোটি মানুষ স্থূলতায় ভুগছিলেন। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মানুষ নতুন করে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ প্রতি তিন সেকেন্ডে বিশ্বে একজনের স্ট্রোক হয়।
অতিরিক্ত ওজন যেভাবে বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি
ইন্ডিয়ান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিকিৎসক বিক্রম হুদেদের মতে, অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের সম্পর্ক রয়েছে। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে রক্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হওয়া কিংবা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ওজন ও স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হলো উচ্চ রক্তচাপ। রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে রক্তনালির দেয়াল দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
স্থূলতার কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে রক্তনালি সরু হয়ে যেতে পারে। এতে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্ট্রোক প্রতিরোধে যা করবেন
ইন্ডিয়ান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চিকিৎসক অরবিন্দ শর্মা বলেন, স্ট্রোক প্রতিরোধের উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো কিংবা নির্দিষ্ট শারীরিক গঠন অর্জন নয়। বরং যেসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণশস্য ও ডালজাতীয় খাবার রাখতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।
নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করাও জরুরি। ধূমপান পরিহার, অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং হৃদ্রোগের যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন না থাকলেও স্ট্রোক হতে পারে। তাই শুধু ওজনের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ, শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া