পুজোর ছুটি শেষ হলেই প্রাথমিক, নবম-দশম ও একাদশ দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগের বাকি ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রের জানা গিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে অন্তত ইন্টারভিউয়ের কাজ শেষ করে ফেলতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে শূন্যপদের সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল করে শীর্ষ আদালত। চাকরি যায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। তার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নবম থেকে দ্বাদশ স্তরে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেয় স্কুল সার্ভিস কমিশন। ফলপ্রকাশ হলেও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ করা যায়নি। তবে নির্বাচনের আগেই একাদশ-দ্বাদশ স্তরের ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টি বিষয়ের কাউন্সেলিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ, প্রার্থীরা সুপারিশপত্র পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরে নতুন করে উঠতে শুরু করে সংরক্ষণ প্রসঙ্গ। ফলে থমকে যায় সেই প্রক্রিয়া।
গত সেপ্টেম্বরে পুরনো প্যানেল বাতিল করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। নতুন করে সংরক্ষণ আইন মেনে ফের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তার মধ্যে বাদ যায় প্রায় ২৭৮০ জনের নাম। যুক্ত হয় প্রায় ২৭৮৪ জনের নাম। যদিও অপরিবর্তিত থাকে মোট শূন্যপদের সংখ্যা। পুজোর আগেই নতুন তালিকা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইন্টারভিউ হয়ে গিয়েছে। বাকি ইন্টারভিউ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানান কমিশনের এক কর্তা। পাশাপাশি সংরক্ষণের নতুন আইন মেনে নবম-দশম স্তরের তালিকাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং তা পুজোর ছুটির আগেই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সেই ইন্টারভিউও নভেম্বরেই করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রের খবর।
কমিশনের এক কর্তা জানান, দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে শীর্ষ আদালতই প্রাথমিক ভাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং পরে ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের সবেতন কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সময়সীমার মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ফের শীর্ষ আদালতে আবেদন করে রাজ্য এবং শেষ বারের মতো শীর্ষ আদালত ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় বৃদ্ধি করেছে। ফলে তার আগেই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যদিও শিক্ষাকর্মীদের পরীক্ষা ইতিমধ্যে গত মার্চ মাসে হয়ে গিয়েছে। সেই ফলপ্রকাশ এখনও হয়নি। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন আশ্বাস গিয়েছেন যে দ্রুত সেই ফলপ্রকাশ করা হবে।
অন্য দিকে স্থগিত হয়ে রয়েছে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগেও। ২০২২ সালে যাঁরা টেট উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, বহু আন্দোলনের চাপে বিগত তৃণমূল সরকার ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ। ১৩,৪২১ জনকে নিয়োগের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে জেলাভিত্তিক ইন্টারভিউ শুরু হয়। প্রথম চারটি দফার ইন্টারভিউ চলে। এর পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। ইতিমধ্যে পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ গত ১৯ মার্চ শেষ হয়। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হলেও তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। তাই পর্ষদের তরফ থেকে স্থগিত হয়ে যায় সেই প্রক্রিয়া। তার পর পুজোর ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন ১৪ অক্টোবর পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব নেন রবিরঞ্জন সেন। নতুন সংরক্ষণ আইন মেনে সব প্রার্থীদের নিজেদের জাতিগত তথ্য পুনরায় ‘সংশোধন’ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেই সুযোগ পাবেন চাকরি প্রার্থীরা।
প্রশ্ন ওঠে, ইতিমধ্যে যে সব জেলার জন্য ইন্টারভিউ প্রক্রয়া হয়ে গিয়েছে সেই তালিকার কী হবে?
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের এক কর্তা জানান, যে সব জেলার ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ হয়ে গিয়েছে সেগুলি অপরিবর্তিত থাকছে। নতুন নিয়মে ওই প্রার্থীদের মধ্যে যাঁরা ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় পড়ছেন না, তাঁরা শুধুমাত্র সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করে দেবেন। কিন্তু নতুন করে তাঁদের ফের ইন্টারভিউতে বসতে হবে না। কারণ মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও টেট এবং ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে তাঁরা ইতিমধ্যে যে নম্বর পেয়েছেন এবারে সংরক্ষণের নিয়মে তালিকা তৈরি করা হবে। বাকি যে জেলাগুলিকে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে সেগুলি নভেম্বরেই শেষ করা হবে।
শুক্রবার পর্ষদের সভাপতি রবিরঞ্জন বলেন, ‘‘নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ইন্টারভিউ শুরু করা হতে পারে। পুরনো ইন্টারভিউয়ের সব কিছু অপিরবর্তিত থাকছে।’’ ফলে নভেম্বর মাসেই স্কুল স্তরের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা বড় ধাপ সম্পূর্ণ হওয়ার আশা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন শিক্ষা দফতরের কর্তারা।
