দিনাজপুরে আমন ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ১০:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
জেলায় এবারে আমন ধানের পোকা দমনে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা। ধানের ক্ষেতে সহজে পোকা দমনে এ পদ্ধতি পর্যায় ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধান ক্ষেতের পোকা দমনে সফল হচ্ছেন।
আমনের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি হলো, ধানের জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া, যা পাখির বসার জায়গা হিসেবে কাজ করে থাকে। এ ডালগুলোতে বসে পাখি ফসলের ক্ষতি কারক পোকা-মাকড় খেয়ে ফেলে। ফলে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কমে যায়। এটি ব্যয় বিহীন, পরিবেশ বান্ধব এবং কীটনাশক মুক্ত পদ্ধতি, যা ফসলের উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিরাপদ ফসল পেতে সাহায্য করে।
গত সোমবার জেলার সদর উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এ বছর সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে পোকা নিধন বিষয় নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম বাসসকে বলেন, চাষ ও ফসল উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব পার্চিং পদ্ধতি এবং ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে ব্যাপক ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কৃষি বান্ধব পরিবেশ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার জেলার সদর উপজেলার নশিপুর, কর্নাই, উত্তর সাদিপুর এবং গবিন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ধান ক্ষেতে পোকা দমনে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকেরা আমন ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের খুঁটি ও বিভিন্ন গাছের ডাল খুঁটি হিসেবে পুঁতে রেখেছে। এসব পুঁতে রাখা ডালের খুঁটি ওপর দোয়েল, ফিঙ্গে, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। পাখিগুলো ক্ষেতের পোকা খেয়ে ধান ক্ষেতের উপকার করছে।
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) বাসসকে জানান, ধানক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে আমরা ব্যাপক সফল হয়েছি।
দাড়াইল গ্রামের কৃষক মো. আমিন উদ্দিন (৭২) বলেন, আমন ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। ক্ষেতের মধ্যে পুঁতে রাখা ডালে পাখি বসে ক্ষেতের পোকা খেয়ে ফেলছে। ফলে আমারা এ সহজ পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছি।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ক্ষতিকারক পোকার হাত থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষায় সদর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে পার্চিং প্রদ্ধতি ব্যবহারে অধিকাংশ কৃষক উপকৃত হচ্ছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ তুষার বাসসকে বলেন, পার্চিং পদ্ধতি বালাই-নাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে জমিতে জৈব সার ও গোবর প্রয়োগে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদর উপজেলাতে ধান চাষে গত কয়েক বছর ধরে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, আমরা গত দু’বছর ধরে ধানক্ষেতের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি।
তিনি জানান, এবার ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে উপশী জাতের ধান ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত এক হাজার ৯৯০ হেক্টর ও হাইব্রিড ১২ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এবারে আমন মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে বৃষ্টির পানি সমস্যা না থাকা ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকেরা অতিরিক্ত এক হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষে সক্ষম হয়েছেন। আশা করছি এবারে আমন ধানের অধিক উৎপাদন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্যাগস :
