দিনদুপুরে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে এক নারীকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ ওই নারীর কোনো সন্ধান পাননি স্বজনরা। মেয়েকে ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেছেন তার বাবা।
নিখোঁজ নারী মোছা. হাবিবা ইয়াসমিন চমক (৩০)। এ ঘটনায় তার বাবা দুলাল হোসেন (৫৯) বাদী হয়ে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেছেন। মামলায় সদর উপজেলার কীর্তিপুর (মুরাপাড়া) গ্রামের রিয়াদ হোসেন (২৮), তার বাবা-মা, ভাইসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চমকের বাবা ও ভাই কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে যান। এ সময় বাড়িতে চমক ও তার মা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সুযোগে রিয়াদ তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের নিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে মা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে চমককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো রুমাল দিয়ে চমকের মুখ চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা।
ঘটনার পর মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন দুলাল হোসেন। উল্টো অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন তিনি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় তাকে নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।
দুলাল হোসেন বলেন, ঘটনার এত দিন পেরিয়ে গেলেও মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। তাকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ২৪ দিনেও নিখোঁজ নারীর সন্ধান না মেলায় তাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
