৩২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩২ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দল হারলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে। সেই প্রশ্নের রেশ পৌঁছায় নির্বাচকদের ঘরেও। কারা দল বাছছেন, সিদ্ধান্ত কতটা তাদের নিজেদের? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার মধ্যে এমন প্রশ্নের মুখে হাবিবুল বাশার জানালেন, দল নির্বাচনে স্বাধীনতার কোনো ঘাটতি নেই। বাইরের প্রভাবে দল গঠনের ধারণাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
দল নির্বাচন নিয়ে নানা সমালোচনার প্রসঙ্গে বাশারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচকেরা পুরোপুরি স্বাধীনভাবে স্কোয়াড বেছে নিতে পারেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘দল যখন টানা ম্যাচ হারে, তখনই এই ধরনের আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠে; জয়ের ধারায় থাকলে এগুলো কেউ বলে না। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। নির্বাচক হিসেবে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই দল বেছে নিই এবং দলের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
বাশারের কথায় স্পষ্ট, দলের ফলাফলের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার যোগ দেখছেন তিনি। তবে শুধু স্বাধীনতার কথাই বলেননি, স্কোয়াডে কাকে রাখা হচ্ছে আর কাকে বাইরে রাখা হচ্ছে, সেসব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
সৌম্য সরকারকে না রাখার পেছনে যেমন নির্বাচকদের বিবেচনা ছিল তার খেলার সুযোগ। ওয়ানডেতে সম্প্রতি রান না পেলেও সৌম্যের ম্যাচ জেতানো ইনিংসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন বাশার। তার ব্যাখ্যা, টেস্টে নিয়মিত ওপেনিং জুটির খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে সৌম্যকে স্কোয়াডে বসিয়ে রাখার চেয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলানো বেশি কাজে আসবে।
বাশার বলেন, ‘আমরা চেয়েছি সে স্কোয়াডে বসে না থেকে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলুক। যে কারণে আমরা দলে বাড়তি কোনো তৃতীয় ওপেনারও রাখিনি, যেন সবাই ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে ম্যাচ প্র্যাকটিসের মধ্যে থাকতে পারে।’
পেসার খালেদ আহমেদের জায়গা না হওয়ার ব্যাখ্যাতেও এসেছে দলের সমন্বয় ও ম্যাচ খেলার সুযোগের বিষয়টি। এবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ফেরায় চার পেসারকে যথেষ্ট মনে করেছেন নির্বাচকেরা। বাশার জানিয়েছেন, একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলে বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে প্রস্তুত রাখাই তাদের চাওয়া। সামনের সফরগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সমন্বয় বদলাতেও পারে।
ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে অমিত হাসানের চেয়ে জাকের আলীকে এগিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে সাম্প্রতিক রান ও অভিজ্ঞতা। বাশারের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করে জাকের ভালোভাবেই ফিরেছেন। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে তার অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে। অমিতও নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় আছেন, তবে তাকে ধীরে ধীরে সুযোগ দিতে চান তারা।
এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নিজেদের বেছে নেওয়া ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখছেন বাশার। একই সঙ্গে দলের ওপর আগেভাগেই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ দিতে চান না। তার ভাষায়, ‘ফলাফল কী হবে তা পরে দেখা যাবে, আগে নিজেদের প্রসেস ঠিক রাখা জরুরি।’
