Published on
:
2 min read
এই সময়, নরেন্দ্রপুরঃ দেশভাগ বদলে দিয়েছিল ঠিকানা, ছিন্ন করেছিল পরিচিত ভিটেমাটির সঙ্গে সম্পর্ক। কিন্তু মুছে দিতে পারেনি শিকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য আর দুর্গাপুজোর আবেগ। বাংলাদেশের ফরিদপুরে শুরু হওয়া ঘটক পরিবারের প্রায় ৩১০ বছরের দুর্গাপুজো আজও সমান ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হচ্ছে কলকাতার রামগড়ে। পাটুলি সংলগ্ন কলকাতা পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটকবাড়িতে এই পুজো যেন দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক জীবন্ত দলিল।
ঘটকবাড়ি সূত্রে খবর, প্রায় তিন শতাব্দী আগে বাংলাদেশের ফরিদপুরে এই পুজোর সূচনা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শাক্ত মতে নানা প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরে ঘটক পরিবারের সদস্যদের একাংশকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে হয়। বদলে যায় বাসস্থান, বদলে যায় পরিচিত পরিবেশ। তবে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প থেকে সরে আসেননি তাঁরা। গত ৩০ বছর ধরে কলকাতার রামগড়ে এই পুজোর আয়োজন করছেন প্রসেনজিৎ ঘটক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পুজোর ক'দিন পরিবারের সদস্যরা দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে মিলিত হন বাড়িতে। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি চলে আত্মীয়স্বজনের পুনর্মিলন, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরার পর্ব।
ঘটকবাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার প্রাচীন আচার। পরিবার সূত্রে খবর, শাক্ত মতে পুজোর তিন দিনই বলির প্রথা রয়েছে। পরিবারের কোনও সদস্য নিজের হাতে সেই বলিদান দেন। প্রতিমার বিন্যাসেও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য—দেবীর বাঁ দিকে থাকেন গণেশ, আর ডান দিকে কলাবউয়ের পাশে কার্তিকের অবস্থান।এই পরিবারের পূর্বপুরুষ বিধুভূষণ ঘটক ছিলেন মা সারদাদেবীর প্রত্যক্ষ শিষ্য। পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।ফরিদপুরের স্মৃতি আর কলকাতার বর্তমানকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে এই পুজো।
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ ঘটক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং শিকড়ের কথা স্মরণ করার একট অনবদ্য সুযোগ। পুজোয় আমরা সবাই একত্রিত হই, বিদেশ থেকেও আত্মীয়রা আসেন। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক সীমানা দুই বাংলাকে আলাদা করলেও ভাষা, সংস্কৃতি ও উৎসবের আবেগ এই পুজো আজও অটুট। তাই বলা যায় রামগড়ের ঘটকবাড়ির দুর্গাপুজো যেন অতীত ও বর্তমানের সেতু বন্ধনের এক অন্যতম দলিল।
