সড়ক দখল করে ব্যবসা, যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ, আর সেই ভোগান্তির আড়ালে ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলশী দিঘির পাড় এলাকায় যেন একের পর এক সমস্যা ঘনীভূত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ফুটপাত দখলের পাশাপাশি কোথাও কোথাও মূল সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশও দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজ, অন্যদিকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিইপিজেডের বেপজা গেট থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত রেল লাইন সড়কের দুই পাশে দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী ছড়িয়ে রাখার কারণে চলাচলের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে কলশী দিঘির পাড় বাজার এলাকায় পরিস্থিতি বেশি দৃশ্যমান। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মস্থলে যাওয়া-আসার ব্যস্ত সময়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও মানুষের জটলা। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও বাড়ছে।
যানজটের আড়ালে ছিনতাইয়ের শঙ্কা-স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যস্ত সময়ে সড়কে অতিরিক্ত ভিড় ও যানজটের সুযোগে মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং ব্যাগ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অপরাধের আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক, নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে কর্মস্থলে প্রবেশ ও ছুটির সময়ে সড়কে যানবাহন এবং মানুষের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়ক-
কলশী দিঘির পাড়ের রেললাইন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী ও পোশাকশ্রমিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে বিবেচিত। রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, সড়কটি প্রশস্ত ও চলাচলের উপযোগী হলে ইপিজেডকেন্দ্রিক শ্রমজীবী মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ কমবে।
তবে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা, রেলওয়ের সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার কারণে অতীতে সড়কটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে জনদুর্ভোগ কমাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। কিন্তু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও মূল সড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে চলমান উন্নয়নকাজ এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নতুন করে বাধার মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়কেও দখলের অভিযোগ- সড়কের ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্ধারিত। অথচ সেখানে দোকান বসানো, পণ্যসামগ্রী রাখা কিংবা ব্যবসার পরিসর বাড়িয়ে মূল সড়কের অংশ ব্যবহার করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। কলশী দিঘির পাড় বাজার এলাকায় এমন পরিস্থিতির কারণে সড়কটির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের জায়গা দখল ও পণ্যসামগ্রী ছড়িয়ে রাখার কারণে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পথচারীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। তাই সড়কের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল চিহ্নিত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
দখলমুক্ত সড়ক চান পোশাকশ্রমিক ও এলাকাবাসী-
এলাকাবাসী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী পোশাকশ্রমিকদের দাবি, সড়কের উন্নয়নকাজের পাশাপাশি ফুটপাত ও মূল সড়ক দখলমুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে উদ্যোগ নেয়, একইভাবে কলশী দিঘির পাড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন নামক সড়কটির প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়নকাজ শেষ হলেও দখল ও বিশৃঙ্খলার কারণে সড়কটির কাঙ্ক্ষিত সুফল সাধারণ মানুষ পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন না।
এখন দেখার বিষয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কে?
সড়ক উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা, উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন রাখা এবং ছিনতাইসহ সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন উঠেছে, লাখো মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?
জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও যাতায়াতকারী শ্রমজীবী মানুষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য এবং তাঁদের করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
The post সড়ক দখলে জনদুর্ভোগ, যানজটে ছিনতাইয়ের শঙ্কা, কলশী দিঘির পাড়ে দেখার কি কেউ নেই? appeared first on দৈনিক আমার সময়.
