উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ২৭ বছর বয়সি ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এই ঘটনায় শিবার পরিবারের অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁর পরিচিত মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বেশ কয়েক মাস ধরে শিবাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। তাঁকে ব্ল্যাকমেল ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউয়ের হাজরতগঞ্জ এলাকার বালু আড্ডার কাছে একটি আবাসনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় শিবার। তিনি রেস্তরাঁ ও ক্যাফে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ৯ অক্টোবর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের কাছে খবর পৌঁছয়। শ্রদ্ধার এক পরিচিত আদিল ফোন করে শিবার পরিবারের সদস্যদের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার কথা জানান। সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যরা শিবার দেহ দেখতে পান।
কী অভিযোগ পরিবারের?
শিবার মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, গত চার মাস ধরে শ্রদ্ধা তাঁর ছেলেকে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেনস্থা করার ভয় দেখানো হত বলেও দাবি পরিবারের। তাঁদের আরও অভিযোগ, শিবাকে মারধর করা হয়েছিল এবং বিভিন্নভাবে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
পরিবারের দাবি, শিবার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সন্দেহ, এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে। শিবার মা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের কাছে শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি দুবে, গাড়ির চালক, আদিল এবং আরও কয়েক জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
শিবার দিদি আস্থা শর্মার দাবি, শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের কথোপকথনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে হেনস্থার প্রমাণ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একটি পার্টিতে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে শিবা ও শ্রদ্ধার আলাপ হয়েছিল। তার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত। পরিবারের অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক ঘিরে বিবাদ বাড়তে থাকে।
শিবার মা আরও দাবি করেছেন, ঘটনার কিছু দিন আগেও শ্রদ্ধা তাঁর দোকানে গিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের তরফে তোলা অভিযোগের বিষয়ে শ্রদ্ধা দুবে বা অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি। হাজরতগঞ্জ থানার পুলিশ এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী পরিস্থিতিতে শিবা চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রত্যক্ষ পরিস্থিতি এবং শারীরিক আঘাতের বিষয়গুলি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
