গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানার মাঝিখোলা এলাকায় একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এটি নাশকতা বলে দাবি করছে পরিবার।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন- ব্যবসায়ী মহসিন প্রধান রুবেল (৩২), তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুবর্ণা (২৬) এবং তাদের দুই ছেলে সোয়াদ প্রধান (৩) ও সাইয়ান প্রধান (৬)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্র জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সাদিয়া বেগমের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া মহসিনের ১ শতাংশ, তার সন্তান সাইয়ানের ১২ শতাংশ এবং সোয়াদের শরীরের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধদের প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
দগ্ধ মহসিন প্রধানের ভাগনি সুমাইরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বসতঘরের জানালা দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তার ভাষ্য, বাড়ির গেটসংলগ্ন ডাইনিং রুমের সোফায় আগুন জ্বলতে দেখে মহসিন পানি দিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সুমাইরার দাবি, আগুনে পানি দেওয়ার পরও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এ কারণে তাদের সন্দেহ— আগুন লাগানোর ক্ষেত্রে গানপাউডার জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দগ্ধ ব্যক্তিরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।