Published on
:
2 min read
এই সময়: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) ছাত্র বিক্ষোভ ও অচলাবস্থা বৃহস্পতিবার ২৫ দিনে পড়ল। লাগাতার এই আন্দোলনের জেরে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই আবহে পরিস্থিতি সামাল দিতে এ বার সরাসরি পড়ুয়াদের অভিভাবকদের দ্বারস্থ হয়েছেন এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা জানিয়েছেন, অচলাবস্থা কাটাতে এবং পঠনপাঠন পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যেই পড়ুয়াদের বাবা-মাকে ই–মেল পাঠানো হয়েছে।
অভিভাবকদের কাছে পাঠানো ওই ই–মেলে মূলত ক্লাস সাসপেন্ড বা স্থগিত রাখার নির্দেশিকার কথা জানানো হয়েছে। উপাচার্যের তরফে ই–মেলে বলা হয়েছে যে, ক্যাম্পাসের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত পঠনপাঠন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্যাম্পাসে যাতে দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা ফেরে এবং অ্যাকাডেমিক কাজকর্ম স্বাভাবিক করা যায়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের পূর্ণ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, অভিভাবকরা হস্তক্ষেপ করলে এই জটিল পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপেও আন্দোলনের ঝাঁজ বিন্দুমাত্র কমেনি। দুর্গাপুজোর দশমীর দিন যখন গোটা রাজ্য উৎসবের মেজাজে, তখনও ক্যাম্পাসের মাটিতে বসে বিক্ষোভ চালিয়ে গিয়েছেন এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়ারা। উৎসবের আনন্দ সরিয়ে রেখে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকেছেন তাঁরা। তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো বর্তমান উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, উপাচার্য তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়াগুলি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন। ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানো এবং ছাত্র সংসদের অধিকার নিয়ে তাঁদের অন্যান্য দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
টানা ২৫ দিন ধরে চলা এই অবস্থান বিক্ষোভ এবার ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বভারতীয় স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন আন্দোলনকারীরা। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের এই অনড় মনোভাবের বিরুদ্ধে তাঁরা এবার দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে চলেছেন। গোটা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজকে একজোট করে এসআরএফটিআই-এর এই আন্দোলনকে জাতীয় স্তরের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
একদিকে কর্তৃপক্ষ ইমেল পাঠিয়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে পড়ুয়ারা বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এসআরএফটিআই-এর জট এখনই কাটার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আগামী দিনে এই সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
