সাতক্ষীরার ৭৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি করা বিতর্কিত ডিলারশিপ নিয়োগ তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক এবং সাতক্ষীরা জজকোর্ট প্রাঙ্গণে এসব দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ত্যাগী কর্মী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি বঞ্চিত করে অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কতিপয় সুবিধাবাদীর যোগসাজশে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিসহ এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, কৃষি ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রশাসনের ভেতরে ও চারপাশে থাকা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও অনুসারীরা এখনো সক্রিয় থেকে এসব উন্নয়ন উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত চালাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, যাদের সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই নিজস্ব কোনো দোকানপাট বা ন্যূনতম ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যক্তিদেরও অনৈতিক সুবিধা ও আত্মীয়তার পরিচয়ে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হবে সাধারণ কৃষকদের। তাই আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি—বিতর্কিত এই তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিতে হবে।
মানববন্ধনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ৭৮টি ইউনিয়নের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও অনিয়মতান্ত্রিক। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে প্রশাসনের ভেতরে থাকা অসাধু চক্রটি পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করেছে। কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে সার পান এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য এসব অনিয়মের তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের দ্রুত তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের একটি অসাধু অংশের সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের এই বঞ্চনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান সজীব ও যুগ্ম সম্পাদক খোকাসহ বিএনপি এবং তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
