স্তন ক্যান্সার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে শুরু হয়েছে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা-২০২৬’।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে এ সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে অর্ধশতাধিক সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
গোলাপি রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বাসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ক্যান্সারজয়ী যোদ্ধা, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ অভিযাত্রায় অংশ নেন। পথসভা, সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা এবং সহজ বাংলায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ, সিওসি, ওয়াইডব্লিউসিএ, খোরশেদ জাহান হক ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটাল, নারীপক্ষ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল, বিসিএফ, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ, জামালপুর সমিতি ঢাকা, পল্লীমা মহিলা পরিষদ, অপরাজিতা, টিএমএসএস, সিসিইপিআরবি, হিল, রোটারি ক্লাব ও ইনার হুইল ক্লাব জেলা ৩২৮সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে শোভাযাত্রাটি শ্রীনগর, ভাঙ্গা, টেকেরহাট, রাজৈর, কালকিনি, টরকী বন্দর, গৌরনদী, বাটাজোর, শিকারপুর ও উজিরপুর হয়ে বরিশালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পথে নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতামূলক সেশন, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হবে। প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা বরিশালে রাত্রিযাপন করবেন।
পরবর্তী পর্যায়ে বরিশাল থেকে নলছিটি, ঝালকাঠি, দুর্গাসাগর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, রহমতপুর, মস্তফাপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নড়িয়াসহ প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জনপদে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা ও প্রচারপত্র বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। কর্মসূচি শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় ফিরে আসবে।
এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
এর আগে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিশিষ্ট ক্যান্সার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তাই তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ক্যান্সার প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির। তিনি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর হবে, মানুষ রোগটির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত হবে।
রিফাত/
