কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ এলাকা। সড়ক ঘেঁষে, সৈকতের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট। বন উজাড় করেও নির্মাণ করা হয়েছে নানা স্থাপনা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, এমন আড়াই শতাধিক হোটেলের নেই অনুমোদন। কক্ষগুলোতে নেই দুর্যোগে বা অগ্নিকাণ্ডে বের হওয়ার ব্যবস্থা। সবশেষ টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
স্থানীয়রা জানান, ‘ফায়ার সার্ভিস এক মাসেরও বেশি আগে তাদের নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই নোটিশের বিষয়টি আমলে নেয়নি। এরপরও তারা জরিমানা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হয়, এসব বিষয় যদি সঠিকভাবে তদারকি করা হতো, তাহলে হয়তো আজ এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে পড়ত না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাদের সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি। সতর্ক করার পরও তারা অবাধে প্রকাশ্যে এসব কাজ চালিয়ে গেছে। এর দায় কার?’
তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দাবি, কিছুদিন আগে নোটিশ দেয়া হয়েছিল রিসোর্টের মালিককে। একই রকম কথা বলছে ফায়ার সার্ভিস।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, ‘আমরা অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণের জন্য নিয়মিত পরিদর্শন করে থাকি। যেসব স্থাপনা অবৈধ, সেগুলোর মালিকদের আমরা নোটিশ দিই। চূড়ান্ত নোটিশ পাওয়ার পরও যদি তারা স্থাপনাগুলো অপসারণ না করেন, তাহলে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে অপসারণ করি।’
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, ‘তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই এখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের জুন মাসে আমার একজন পরিদর্শক তাদের একটি নোটিশও দিয়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছিল, আপনারা ব্যবসা করছেন, তাই আপনাদের ই-ফায়ার লাইসেন্স নিতে হবে। এ জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
১০ পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টের মালিক ও ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
