দুর্গাপুজোর শেষ দিন মানেই বিষাদের সুরের সঙ্গে বিসর্জনের আনন্দ। ঢাকের তালে তালে নাচ, বন্ধুদের সঙ্গে উদ্যাপন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি— সব মিলিয়ে দশমীর দিন শরীরের উপর দিয়ে কম ধকল যায় না। কিন্তু উৎসবের আনন্দ মিটতেই অনেকের শুরু হয় পায়ের পেশিতে টান, গোড়ালিতে ব্যথা কিংবা পায়ের পাতায় অস্বস্তি। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ নাচ বা দাঁড়িয়ে থাকার পর এই সমস্যা বেশি হতে পারে। তা হলে বিসর্জনের পর পায়ে ব্যথা হলে দ্রুত আরাম পেতে কী করবেন?
ব্যথা শুরু হলে জোর করে হাঁটাহাঁটি বা নাচ চালিয়ে যাবেন না। আরাম করে বসুন কিংবা শুয়ে পড়ুন। পায়ের উপর চাপ পড়ে এমন কাজ আপাতত বন্ধ রাখুন।
ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন: নতুন করে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে কাপড়ে মোড়া বরফ দিয়ে ১৫–২০ মিনিট সেঁক দিতে পারেন। বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা অন্তর সেঁক দেওয়া যায়।
পা সামান্য উঁচুতে রাখুন: শুয়ে থাকার সময় বালিশের উপর পা তুলে রাখলে ফোলা কমাতে সাহায্য হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পায়ে ফোলাভাব দেখা দিলে এই পদ্ধতি কাজে লাগতে পারে।
পর্যাপ্ত জল পান করুন: দীর্ঘক্ষণ নাচ বা হাঁটাহাঁটির ফলে ঘাম হলে শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। তাই নিয়মিত জল পান করুন। পাশাপাশি স্বাভাবিক, পুষ্টিকর খাবার খান।
ব্যথা কমলে ধীরে ধীরে নড়াচড়া করুন: পেশিতে সাধারণ ক্লান্তি থাকলে এবং তীব্র ব্যথা বা ফোলা না থাকলে ধীরে ধীরে পা নাড়াতে পারেন। তবে জোর করে স্ট্রেচিং, শক্ত করে মালিশ বা ব্যথা নিয়ে আবার নাচা এড়িয়ে চলুন।
পায়ে ভর দিতে না পারলে, তীব্র ব্যথা বা ফোলা হলে, পা লাল-গরম হয়ে গেলে কিংবা ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে একটি পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, তার সঙ্গে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
