বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের বিশ্বনাথের পল্লীতে ২ পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মনফর উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের মৃত উমেদ আলীর ছেলে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের রাজিবুল মিয়া বাদি হয়ে ৩৭জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও ৩০/৩২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার ৩ এজাহার নামীয় আসামীকে মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশ তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের মির্জারগাঁও গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে ছাইদুল মিয়া (২৯), শাহীন মিয়া (২৭), একই গ্রামের তছির উদ্দিনের ছেলে সালমান আহমদ কাঞ্চন (২৫)। গ্রেফতারকৃতদের আজ বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মির্জারগাঁও গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও খালেদ মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুম্মা প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় লাঠি-সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অনন্ত ১৫জন আহত হন। এরই মধ্যে গুরুত্বর আহত কয়েকজন কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে শাহজাহান মিয়ার পক্ষের আহত মনফর আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এ মামলার ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দৈনিক সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন।
