শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা অষ্টমীর পবিত্র তিথিতে আলো ছড়িয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা মিমি চক্রবর্তী। ১১ অক্টোবর শনিবার সকাল থেকেই অত্যন্ত ভক্তিসহকারে পূজার আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা গেছে এই তারকাকে। এ বছর অষ্টমীর সন্ধিপুজোর তিথি বেশ সকালেই শুরু হওয়ায়, প্রত্যুষেই দেবীর চরণে অঞ্জলি অর্পণ এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেছেন তিনি।
এদিন মিমিকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ এক অন্যরূপে, যেখানে কোনো তারকাসুলভ অহংকার বা দূরত্ব ছিল না। পরনে একটি স্নিগ্ধ গোলাপি রঙের চুড়িদার পরে তিনি নিজ আবাসনের পূজামণ্ডপে সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আবাসনের পুজোয় নিজ হাতে পদ্মফুল ফোটানো থেকে শুরু করে ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ—সব কাজেই অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি, স্নেহময়ী বাবার পাশে দাঁড়িয়ে দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সকলের হাতে অঞ্জলির ফুল তুলে দেন তিনি, যা তাঁকে পরিণত করেছিল সকলের ঘরের মেয়েতে।
অষ্টমীর এই বিশেষ মুহূর্তের কিছু মনোমুগ্ধকর ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিমি। পোস্টে তিনি লিখেছেন, সকলকে জানাই অষ্টমীর অনেক শুভেচ্ছা, মা সকলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করুন এটাই প্রার্থনা করি। তবে উৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও গত সপ্তমীর রাতে ঘটে যাওয়া চোরবাগান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গটি বারবার উঠে এসেছে তাঁর পোস্টে, যা বিষণ্ণ করে তুলেছে তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকেও।
চলতি বছরের দুর্গাপুজো মিমি চক্রবর্তীর জীবনের অন্যতম বিশেষ একটি অধ্যায়, কারণ এই উৎসবের আবহেই মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। এই সিনেমায় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে জুটি বেঁধে এক তরুণ বিপ্লবীর চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন মিমি। উৎসবের রোমাঞ্চ আর পেশাগত সাফল্যের এমন এক মোহময় সময়েই যেন মিশে আছে মিমির এবারের শারদীয় উদ্যাপন।
