গত ১৪ বছরের মধ্যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এবার স্মার্টফোন সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর কারণ হিসেবে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দায়ী বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ায় মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এআই খাতে চিপের ব্যাপক ব্যবহার স্মার্টফোন নির্মাতাদের সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদামে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চিপ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ছেন।
এ ছাড়া চিপের সরবরাহ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে স্মার্টফোনের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আবার কিছু নির্মাতা উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে মুনাফা ধরে রাখার কৌশল অনুসরণ করছে। এতে একদিকে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের বাকি সময়েও স্মার্টফোন বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাতারা উৎপাদন কমানো, স্মার্টফোনের মডেলের সংখ্যা সীমিত করা এবং বেশি দামের ফোনের দিকে মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখতে পারেন।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন কম বাজেটের ক্রেতারা। মেমোরি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ সীমিত থাকা এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ফোনের দাম বাড়লে অনেক ক্রেতা নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে বাজারে চাহিদা আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে কম দামের ফোনের বিকল্প সীমিত হয়ে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয়ও বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
