প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ · ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানিতে ভেসে উঠছে মরা মাছ। সেগুলো সংগ্রহ করতে নদীতে নামছেন স্থানীয় লোকজন। বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে। এতে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নদীর দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণের অস্তিত্ব নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর থেকে নদীর বিভিন্ন স্থানে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন মশারি ও জাল দিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করেন। তারা জানান, বিষক্রিয়ায় বাঘমাছ, মিরগা, চিংড়ি, বাইং, গুলশা, মলা-ঢেলা ও পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে।
নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করতে আসা জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে জানান, ধলাই নদীতে প্রতিবছরই এভাবে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। তারা নদী থেকে সংগ্রহ করা মাছ বাড়িতে নিয়ে রান্না করে খান। তবে এভাবে মাছ নিধনকে অন্যায় উল্লেখ করে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম ও নাজমুল হাসান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ। এভাবে মাছ নিধন চলতে থাকলে নদীর জীববৈচিত্র্যের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ধলাই নদী থেকে সংগ্রহ করা মরা মাছ খাওয়া নিয়ে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাকুর আহমেদ বলেন, বিষক্রিয়ায় মারা যাওয়া মাছ রান্না করে খেলেও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এতে কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষ প্রয়োগে মারা গেছে বলে সন্দেহ হয়, এমন মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিকও। তিনি বলেন, নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে আগে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
