Published on
:
3 min read
জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচির আগেই তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর আরও অভিযোগ, বাড়ির বাইরে নজর রাখছেন গোয়েন্দারা, অনুসরণ করছে নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি। শুক্রবারের জমায়েতের আগে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দীপকের। তাঁর আশঙ্কা, বৃহস্পতিবার রাতে অথবা শুক্রবার কর্মসূচির আগে তাঁকে আটক করতে পারে দিল্লি পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে তাঁকে আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এক নজরে
কে অভিযোগ করেছেন: কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
কী অভিযোগ: তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে, নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি অনুসরণ করছে এবং IB কর্মীরা তাঁর থাকার জায়গার নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে খবর নিচ্ছেন বলে দাবি।
কী আশঙ্কা: শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করতে পারে দিল্লি পুলিশ।
কর্মসূচি: ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুষ্ঠান।
কোথায়: দিল্লির কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক।
কবে: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর।
আন্দোলনের দাবি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ করা।
পার্ক বন্ধ: প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে NDMC।
নিরাপত্তা: কর্মসূচিকে ঘিরে কনৌট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
প্রতিক্রিয়া: নজরদারির অভিযোগ নিয়ে IB বা দিল্লি পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নিয়ম ভেঙে ওই জায়গায় ঢোকার অভিযোগে আগে থেকেই জেল হেফাজতে CJP কো-অর্ডিনেটর ও সর্বভারতীয় মুখপাত্র সৌরভ ও আশুতোষ রাঙ্কা। এর পরে যদি অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করে পুলিশ, সেই ক্ষেত্রে আন্দোলনের পরবর্তী অভিমুখ নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি তাঁর পিছু নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁর থাকার জায়গার বাইরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র কর্মীরা নিয়মিত খবর নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ CJP প্রতিষ্ঠাতার। যদিও তাঁর এই দাবির বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা বা দিল্লি পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
‘তেরঙ্গা ওড়াতে জেলে যেতেও রাজি’
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, দিল্লির কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছে CJP। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামের এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন দীপকে। তাঁর কথায়, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াব। দেশের নাগরিক হিসেবে এটা যদি অপরাধ হয়, তা হলে আপনারাই সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী।’ জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীপকের দাবি, তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরকার বদল নয়। বরং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন, এমন কাউকে নিয়োগ করা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেই এই আন্দোলন।
সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ শুনেই ক্ষোভ দীপকের
এ দিকে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC)। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দীপকে। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা যদি ১০০টি জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ডাক দেন, তা হলে কি প্রশাসন ১০০টি জায়গাই বন্ধ করে দেবে? বিক্ষোভ ঘিরে কনৌট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় আরও কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে দিল্লি পুলিশ। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্যও জারি হয়েছে ট্র্যাফিক অ্যাডভাইজ়রি।
FAQ
১. অভিজিৎ দীপকে কেন আটক হওয়ার আশঙ্কা করছেন?
CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নম্বরপ্লেটহীন গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাত বা শুক্রবার সকালে তাঁকে আটক করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২. অভিজিৎ দীপকে IB-র বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছেন?
দীপকের দাবি, তাঁর থাকার জায়গার বাইরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) কর্মীরা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে IB-র কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
৩. CJP-র ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কোথায় হবে?
CJP-র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর দিল্লির কনৌট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. CJP-র আন্দোলনের মূল দাবি কী?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানাচ্ছে CJP। তাঁর জায়গায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন, এমন কাউকে নিয়োগের দাবি দলের।
৫. সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বলেছেন দীপকে?
১৬ ও ১৭ অক্টোবর প্রশাসনিক কারণে সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন দীপকে। তাঁর প্রশ্ন, তাঁরা যদি ১০০টি জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ডাক দেন, তা হলে কি প্রশাসন সব জায়গাই বন্ধ করে দেবে?
৬. CJP-র অন্য কোন নেতারা জেল হেফাজতে রয়েছেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নিয়ম ভেঙে সেখানে প্রবেশের অভিযোগে CJP-র কো-অর্ডিনেটর সৌরভ এবং সর্বভারতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জেল হেফাজতে রয়েছেন।
