আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের হুমকি পুরোপুরি দূর করতে দেশটির সরকার উৎখাত করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আবারও জয়ী হওয়ার জন্য যখন তিনি কঠিন লড়াইয়ের মুখে রয়েছেন, তখনই ইরান নিয়ে এমন কঠোর অবস্থান জানালেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরান আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের থামিয়েছি। তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চেয়েছিল, আমরা সেটিও ঠেকিয়েছি। তারপরও তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর একমাত্র পথ হলো এই সরকারকে উৎখাত করা।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং দেশের সব নিরাপত্তা সংস্থাকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তবে কখন বা কীভাবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি নেতানিয়াহু।
বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু ইরানে আবারও হামলা শুরুর প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পরিকল্পনায় আপত্তি জানান।
আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা নেই বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল।
আরও পড়ুন
এ সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ইরান নিয়ে তাঁদের ‘এখনো একটি কাজ শেষ করা বাকি’।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও ইরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
বুধবার দক্ষিণ ইসরায়েলে এক সামরিক কর্মকর্তাদের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তবে আমরা বুঝতে পারছি, এই দুর্বলতা থেকেই তারা সবচেয়ে চরম পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ইসরায়েলে হামলা চালালে ইরান জ্বলবে!
আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেছেন কাটজ। তার দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বে ইসরায়েলের শত্রুরা এমন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
