ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট :
১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৪৮
স্কোরকার্ড দেখে মনে হতে পারে, আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু যাঁরা খেলা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝেছেন কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কী পরিমাণ ফারাক। দ্রুত কয়েকটা উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখে আফগানরা। তবে সেই ধাক্কা সামলে এখন নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আবুধাবিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।
৭২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। লিডসহ তাদের রান ৩২৯। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করায় সবকিছু খুঁটিনাটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন রমিজ রাজা। গতকাল রাতে নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানি ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেন, ‘আফগানদের চাপে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। আমার মতে চালকের আসনে বাংলাদেশ। চার দিনেই এই টেস্ট শেষ হবে।’
১০৬ রানের লিড নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ যখন দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে, অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। চতুর্থ উইকেটে শান্ত-মুশফিক ১৫৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি গড়ার পথে শান্ত দুইবার জীবন পেয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক ব্যাটিংয়ের সময় কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। তবু মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলে গেছেন।
শান্তর ধীরস্থির ব্যাটিং নজর কেড়েছে রমিজের। পাকিস্তানি ক্রিকেট বিশ্লেষক প্রশংসা করেছেন মুশফিকেরও, ‘শান্ত-শফিকের জুটিটা অনেক দরকার ছিল। ৫৩ রানে ৩ উইকেট চলে গেল। পরে তারা দেড়শ রানের জুটি গড়ল। সেখান থেকেই ম্যাচটা বাংলাদেশ নিজেদের দখলে নিয়ে এসেছে।’
দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে ১৭ উইকেট। যার মধ্যে তিন পেসার মোহাম্মদ সেলিম, ইয়ামিন আহমাদজাই, ইসমাত আলম মিলে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। দুই স্পিনার কায়েস আহমেদ জিয়াউর রহমান চার উইকেট ভাগাভাগি করেছেন। দুজনেই দুটি করে উইকেট পেয়েছেন।
পেসারদের তুলনায় আফগানিস্তানের স্পিনাররা অনেকটাই পিছিয়ে আছেন বলে মনে করেন রমিজ। পাকিস্তানি ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেন, ‘আফগানিস্তানের স্পিন বিভাগে সমস্যা। তাদের পেসাররা ভালো করছে। তবে স্পিনাররা ধারাবাহিক না।’
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম ৮৩ রান করে আউট হয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কমপক্ষে হতে পারত তিন সেঞ্চুরি। তবে মুশফিক আউট হয়েছেন ৮১ রান করে। আর কায়েসের ভেতরে ঢোকা বল বুঝতে না পেরে সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান আগেই বোল্ড হয়েছেন শান্ত। তবে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন। ১০৫ বলে তুলে নিয়েছেন সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১০৭ বলে ১৪ চারে ১০২ রান করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
৪৭৯ রানের লক্ষ্যে নেমে ২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তান। আব্দুল মালিককে (২) ফেরান ইবাদত হোসেন চৌধুরী। তিন নম্বরে নামা শাহিদুল্লাহ কামালকে ফিরিয়েছেন হাসান মাহমুদ। দুটি উইকেটেই ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস। যার মধ্যে হাসানকে পুল করতে গিয়ে শাহিদুল্লাহ কট বিহাইন্ড হয়েছেন। আম্পায়ার আহসান রাজা আঙুল তুলে দেওয়ার পরও রিভিউ নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত রিভিউ নষ্ট হয়েছে। ১৫ ওভারে ২ উইকেটে ৫১ রানে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের খেলা শেষ করে আফগানিস্তান।

