‘ফাদার অব অল বোমস’ বা সব বোমের জনক নামক একটি নতুন বিধ্বংসী অস্ত্র উন্মোচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শত্রুপক্ষের জন্য এই অস্ত্রটি সম্পূর্ণ নতুন ও অভাবনীয় একটি চমক হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি ইরানের ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, আমরা ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচন করার প্রস্তুতি পর্বের পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য সম্পূর্ণ নতুন কিছু হবে। তবে ওই নতুন অস্ত্রের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা বিশেষ কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন, যা সাধারণত ‘মাদার অব অল বোমস’ নামে পরিচিত। এর পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি বা ২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৪৩/বি হলো মার্কিন সামরিক অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম বৃহত্তম প্রচলিত ও অপারমাণবিক বোমা। ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রক্ষমতার মেয়াদে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে আইএসআইএস (দায়েশ) সন্ত্রাসীদের একটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে এটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছিল।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর থেকে দেশটির সামরিক ভাণ্ডারে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আগের তুলনায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং তাদের পাল্লা, ধ্বংস করার ক্ষমতা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নিখুঁত নির্ভুলতাও অনেক বেড়েছে।
সামরিক নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখন স্থায়ী ও পরম প্রতিরোধের দিকে মোড় নিচ্ছে। অতীতে ইরানের সামরিক নীতি সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক ছিল এবং বলা হতো যে কোনো দেশ আক্রমণ করলে কেবল তার জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তেহরান নীতিগতভাবে অবস্থান নিয়েছে, যদি কোনো দেশ ইরানে আক্রমণ চালায়, তবে তারা শুধু আত্মরক্ষামূলক জবাবই দেবে না, বরং পাল্টা আক্রমণ বা অফেন্সিভ কৌশল গ্রহণ করবে।
মোহেবি স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব সমমানের কঠোর পদক্ষেপে দেওয়া হবে এবং দেশের সামরিক মতবাদ এখন ক্রমবর্ধমানভাবে অসমমিত যুদ্ধের ওপর নির্ভর করবে। তিনি যোগ করেন, আমাদের কৌশল আর কেবল আক্রমণাত্মক বা প্রতিরক্ষাত্মক থাকবে না, বরং তা হবে সম্পূর্ণ অসমমিত। আমরা এমনভাবে শত্রুকে আক্রমণ করব যাতে তারা আমাদের প্রতিঘাতের তীব্রতা হাড়ে হাড়ে টের পায়।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ শুরু করেছিল, যার জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল। পরবর্তীতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিরোধের জেরে সেই আলোচনা একপর্যায়ে ভেস্তে যায়।
