মারকাটারি অ্যাকশন, রোম্যান্স, ‘আলফা মেল’ ট্রেন্ডের ভিড়ে আধ্যাত্মিক কনটেন্টেই বাজিমাত করেছেন ‘হনুমান অংশ’ পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। কারণ মাত্র ২ কোটি বাজেটের এই সিনেমা ব্যবসার নীরিখে বলিউডের মেগাবাজেট ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, এমনকী দক্ষিণী ছবি ‘টক্সিক’কেও ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে! সিনেসমালোচকদের কথায়, সহজ-সরল ন্যারেটিভেই বাজিমাত করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে দর্শক-অনুরাগীদের উপরিপাওনা আধ্যাত্মিকগুরু নিম করোলি বাবার জীবনদর্শন। মাত্র ২ কোটি বাজেটের ‘হনুমান অংশ’ বিশ্বজুড়ে ৪৩৫ কোটির ব্যবসা করে রীতিমতো তাক লাগিয়েছে, বললেও অত্যুক্তি হয় না। এই ছবি ঘিরে চর্চাও অন্তহীন। এমন আবহেই কলকাতায় এসে উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার অফিসে পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। জমিয়ে আড্ডা দিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং জিনিয়া সেনের সঙ্গে। তাহলে কি নতুন কাজের প্ল্যান?
“উনি যেমন উইন্ডোজ-এর ‘পোস্ত’ দেখেছেন, তেমনই ‘শাস্ত্রী বিরুদ্ধ শাস্ত্রী’ও দেখেছেন। দুটো সিনেমাই বিশালের কতটা ভালো লেগেছে, সেটাও জানালেন। নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সিনে-ঘরানা সম্পর্কে যে উনি বেশ অবগত, সেটা স্পষ্ট।”
আচমকাই কেন উইন্ডোজের অফিসে বলিউড পরিচালক? জানতে সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল চিত্রনাট্যকার জিনিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন, “আমাদের কিছু কমন ফ্রেন্ডস রয়েছে। রঘুবেন্দ্র সিং আমাদের বন্ধু। আর ওঁর বন্ধু ‘হনুমান অংশ’ পরিচালক বিশাল চতুর্বেদী। কলকাতায় একটা কাজে এসেছিলেন, সেই সূত্রেই আমরা উইন্ডোজের অফিসে একটা আড্ডার আয়োজন করেছিলাম। মধ্যাহ্নভোজ সহযোগে সিনেমা নিয়ে আমাদের অনেক কথা হল। মূলত ‘হনুমান অংশ’-এর মেকিং নিয়েই কথা হচ্ছিল। কারণ ২ কোটি ৭৫ লক্ষ বাজেটের একটা সিনেমা ৪০০ কোটির ব্যবসা করছে, সেটা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মাইলস্টোন বললেও অত্যুক্তি হয় না। উপরন্তু তারকাখচিত মুখের ভিড়ও নেই। সিনেমাটা তৈরি করতে গিয়ে কত ঘাত-প্রতিঘাত পেরতে হয়েছে? এগুলো নিয়েই বিশাল চতুর্বেদীর সঙ্গে আমাদের আড্ডা হল।”
“উইন্ডোজ-এর কাছে যেমন কনটেন্ট-ই শেষ কথা, ওঁর কাছেও তাই। কনটেন্ট অনুযায়ী কাস্টিংয়ে বিশ্বাসী বিশাল চতুর্বেদীও।”
ভবিষ্যতে কি উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে জুটি বাঁধবেন? এহেন সাক্ষাতে মনে প্রশ্ন উঁকি দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। জিনিয়া জানালেন, “উনি আমাদের অফিস, স্ক্রিনিং অডিটোরিয়াম সবটা ঘুরে দেখলেন। ভীষণ প্রশংসা করলেন। এটা নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমাদের অফিসে আমরা সবাই ‘হনুমান অংশ’ দেখেছি। তো সেসব নিয়েই আমাদের যা কৌতহূল ছিল, উনি সেগুলিরই উত্তর দিচ্ছিলেন। উনি যেমন উইন্ডোজ প্রযোজিত ‘পোস্ত’ দেখেছেন, তেমনই ‘শাস্ত্রী বিরুদ্ধ শাস্ত্রী’ও দেখেছেন। দুটো সিনেমাই বিশালের কতটা ভালো লেগেছে, সেটাও জানালেন। নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সিনে-ঘরানা সম্পর্কে যে উনি বেশ অবগত, সেটা স্পষ্ট। এপ্রসঙ্গে আরেকটা কথা উল্লেখ্য। উইন্ডোজ-এর কাছে যেমন কনটেন্ট-ই শেষ কথা, ওঁর কাছেও তাই। কনটেন্ট অনুযায়ী কাস্টিংয়ে বিশ্বাসী বিশাল চতুর্বেদীও।” আর ভুরিভোজ কতটা জমল?
চিত্রনাট্যকার জিনিয়া জানালেন, “উনি আমাদের আগেই জানিয়েছিলেন যে উনি নিরামিষাশী। সেই অনুযায়ী আমি আর শিবু নিরামিষ মেনু ঠিক করি। বিউলির ডাল, আলু পোস্ত, কাঁচকলার খোসা বাটা, কাঁচকলার কোফতা, বাঁধাকপি, ধোকার ডালনা, পনির আর শেষপাতে নানারকম মিষ্টি এবং গন্ধরাজ দই। বিশালের এতটাই ভালো লেগেছে যে প্রত্যেকটা বাঙালি পদ সম্পর্কে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।”
