লক্ষ্মীপুজোর দিনে কোথাও দেবীকে ফলাহার, কোথাও আবার অন্নভোগ দেওয়ার রেওয়াজ। সেই তালিকায় থাকে খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনিও। খিচুড়ি রান্নার পদ্ধতিও এক এক বাড়িতে এক এক রকম। এক উপকরণে রাঁধলেও, খিচুড়ির স্বাদ বাড়িভেদে ভিন্ন হয়। তবে সুস্বাদু খিচুড়ি বানাতে গেলে চাল, ডাল, জল, মশলা সমস্ত অনুপাত নিখুঁত হওয়া জরুরি।
বাড়িতে পুজো থাক বা না থাক, কী ভাবে নিরামিষ খিচুড়ি বানালে সকলে হাত চেটে খাবেন? রান্নার সময় মাথায় রাখুন ছোটখাটো ৫ কৌশল।
প্রথম ধাপ: মুগডাল ভাজতে হবে হালকা আঁচে। হালকা রং আসবে, তবে পুড়ে যাবে না। ভাজা মুগ ডাল জল দিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। লক্ষ্মীপুজোর খিচুড়ির জন্য মুগডালের সঙ্গে লাগবে গোবিন্দভোগ চাল। ২৫০ গ্রাম চাল নিলে, দিতে হবে ১৫০ গ্রাম মুগডাল।
দ্বিতীয় ধাপ: খিচুড়ি বেশি শুকনো হয়ে গেলে দলা পাকিয়ে যায়। আবার খুব বেশি তরল হলেও ভাল লাগে না। তাই জলের মাপটি জরুরি। ২৫০ গ্রাম গোবিন্দভোগ চালের খিচুড়ি করলে মোটামুটি ২ লিটার জল দিন। হাঁড়িতে বা কড়াইয়ে জল গরম করে নিন। তাতে হলুদ যোগ করুন। ফুটন্ত জলে চাল, ডাল একসঙ্গে নয়, প্রথমে দিন মুগডাল। ঢাকা দিয়ে ডাল সেদ্ধ হতে দিন। ডাল কিছুটা সেদ্ধ হলে দিন ধুয়ে রাখা গোবিন্দভোগ চাল। স্বাদমতো নুন দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন।
তৃতীয় ধাপ: মশলা খুব গুরুত্বপূ্র্ণ। আদাবাটা, জিরেবাটা, কাঁচালঙ্কাই মূলত মশলা হিসাবে ব্যবহার হয়। এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন এক চা-চামচ রাঁধুনিবাটাও। ৫০ গ্রাম আদার সঙ্গে ৭-৮টি কাঁচালঙ্কা, ১ চা-চামচ জিরে এবং রাঁধুনি জল দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন।
চতুর্থ ধাপ: সর্ষের তেল গরম করে তাতে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। মশলা কষিয়ে নিন। যোগ করুন ধনেগুঁড়ো, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন। মশলা কষিয়ে টম্যাটো বাটা দিন। আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন, তেল না ছাড়া পর্যন্ত।
পঞ্চম ধাপ: খিচুড়ির চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে মশলা এবং ফোড়ন তার মধ্যে দিয়ে ভাল করে নাড়াচাড়া করে নিন। খিচুড়ি একটু পাতলা থাকা অবস্থায় আঁচ বন্ধ করুন। কারণ, ঠান্ডা হলে খিচুড়ি কিছুটা শুকিয়ে যাবে।
