চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী, বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের দুঃখ ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড। জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক এবার নির্ভুল ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। ১০০ মিটার পুরুষ স্প্রিন্টের সময় ইলেকট্রনিক বোর্ড ছিল অচল। নারী ইভেন্টে যে টাইমিং প্রদর্শন করেছে, সেটার সাথে আবার তারতম্য ছিল অনেক।
স্টেডিয়ামের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ইমরানুর রহমানের টাইমিং প্রথমে প্রদর্শন করেছিল ১০.৭৩ সেকেন্ড। এর কয়েক মিনিট পর দেখা যায় ১০.৫৩ সেকেন্ড। সেটার পাশেও লেখা প্রভিশনাল। ১০.৫৩ সেকেন্ড টাইমিং ধরেই সাংবাদিকরা দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের সঙ্গে আলাপ করেন। জাপানের আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ইমরানের টাইমিং আরও কম ছিল। এ নিয়ে ইমরানের ব্যাখ্যা, ‘আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাইমিংটা এ রকম হয়েছে। আরও কয়েকটি ইভেন্ট আছে, ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে। ’ পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড় ১০.৫৩ সেকেন্ডে শেষ করে প্রথম হন ইমরানুর। ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীরই মোহাম্মদ ইসমাইল। ১০.৭৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সেনাবাহিনীর তারেক রহমান।
জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১০০ মিটার ইভেন্টে পদকজয়ীদের তিনি পদক পরিয়ে দিয়েছেন। তাই আজকের দিনটি একটু বিশেষ ১৮তম বার দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিনের কাছে, ‘এটা খুব ভালো লাগছে যে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক পেলাম। রাষ্ট্রপতি জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছেন। এতে বোঝা যায় তিনি খেলাধুলার প্রতি কতটুকু আন্তরিক। ’ শিরিনের টাইমিং ১২.০৮ সেকেন্ড। এই টাইমিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় পদক পাওয়া বড় কঠিন। তারপরও আশা দেখছেন, ‘এসএ গেমস হতে এখনও কয়েক মাস বাকি। ঠিকমতো অনুশীলন হলে আমি পদকের সম্ভাবনা দেখছি।’

নারীদের ১০০ মিটারে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন শিরিন আক্তার। দ্বিতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন, সময় ১২.২৩ সেকেন্ড। ১২.৩৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হন নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান।
কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এক নতুন জোয়ার বইছে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ও উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি শুধু একজন ভালো সংগঠকই ছিলেন না, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তার অনন্য অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারে ক্রীড়ানুরাগের ইতিহাস স্মরণ করেন। অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে বর্তমান সময়ের ভয়াবহ মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করার একটাই পথ মাঠে খেলাধুলা করা।’
প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’
নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ দ্রুত চালুর কথা বলেন। পাশাপাশি বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়ার দীর্ঘমেয়াদী পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী। এরপর খেলোয়াড় ও বিচারকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেট ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার পর্দা উঠল।
এজেড/এফএইচএম
