সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবের আওতায় ই-জিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন চিনি কেনার সুপারিশ করা হয়।
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। জিটুজি-ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত দর প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ধরা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) দরের চেয়ে ১০ সেন্ট কম।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এলএনজিসহ মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবের আওতায় ই-জিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন চিনি কেনার সুপারিশ করা হয়। প্রথম প্রস্তাবে পাঁচ হাজার টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়বে ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে একই পরিমাণ চিনির মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি কেজির দাম ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। উভয় ক্ষেত্রেই সুপারিশকৃত দরদাতা মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড।
সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ভ্যারিয়েশনের পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সুপারিশকৃত দরদাতা জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।
একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবা-সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবে ৪০৫ কোটি টাকা ভ্যারিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ কাজ জাপানের নিপ্পন কোয়েই, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টসের যৌথ উদ্যোগকে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় চলতি অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ৪৪৬ দশমিক ৬৭ ডলার। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ ডলার।
রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার।
কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ৮০ হাজার ও ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির দুটি প্রস্তাব করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি টনের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ ডলার।
এছাড়া জিটুজি ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে চলতি ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির একক দর ধরা হয়েছে জেকেএম দশমিক ১০ ডলার।
সৌদি আরবের এমএ’এডেন থেকে চলতি বছরের পঞ্চম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রতি টনের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ ডলার।
এছাড়া কমিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের দাখিলকৃত দর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে। ১৫ বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
