Published on
:
2 min read
প্রেমটা একেবারে অন্য রকম। প্রেমের সঙ্গী একটি বালিশ! আবার সেই বালিশেরও রয়েছে নিজস্ব ইচ্ছা। তাকে ঘিরেই মুম্বই শহরজুড়ে এক অদ্ভুত, উন্মত্ত সফর। কল্পনা, বাস্তব আর উদ্ভটের মিশেলে তৈরি এমনই এক গল্প নিয়ে আসছেন আস্থা টিকু। তাঁর লেখা ও পরিচালনায় তৈরি চব্বিশ মিনিটের ফ্যান্টাসি কমেডি-ড্রামা ‘ড্রিমবোট’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে চলেছে ধরমশালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন অমিত মাসুরকর। যিনি ‘নিউটন’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘শেরনি’ ছবির চিত্রনাট্যকার হিসেবে পরিচিত আস্থা এই ছবির হাত ধরেই পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন। ছবিটি অমিতের সঙ্গে তিনিও প্রযোজনা করছেন। ‘নিউটন’ ছাড়াও ‘শেরনি’ এবং ‘সুলেমানি কিড়া’-র মতো ছবির জন্য পরিচিত অমিতের প্রযোজনায় এই নতুন কাজ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।
এক সঙ্গীতশিল্পী তার বালিশের সঙ্গে প্রেমে রয়েছে। কিন্তু সেই অদ্ভুত প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার মা। হিংসাত্মক হস্তক্ষেপে আচমকাই ছিন্ন হয় সম্পর্কের সুতো। এর পরেই শুরু হয় মুম্বই শহরজুড়ে সেই শিল্পীর এক বেসামাল সফর। পথে আসে বন্ধুত্ব, আকাঙ্ক্ষা, নিঃসঙ্গতা এবং বাস্তবকে চিনতে না পারার দোলাচল। এই যাত্রায় তার দেখা হয় এক রহস্যময় গৃহহীন কবির সঙ্গে। ক্রমশ অপরিচিত হয়ে ওঠা শহরে সে খুঁজতে থাকে প্রেম, আশ্রয় আর সংযোগের সূত্র। অন্য দিকে, ফেলে আসা বালিশটিও যেন ধীরে-ধীরে নিজের ইচ্ছায় চলতে শুরু করে। ফ্যান্টাসি এবং উদ্ভট কল্পনার মিশেলে তৈরি এই ছবি। এখানে অস্বাভাবিক ঘটনাও কখন যেন হয়ে ওঠে ভীষণ চেনা। রং, পোশাক, সঙ্গীত এবং ভাষার অভিনব ব্যবহার ছবিটিকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র মেজাজ। ভারতীয় সিনেমায় ব্যতিক্রমী গল্প বলার যে ধারা রয়েছে, ‘ড্রিমবোট’ সেই ধারারই নতুন সংযোজন বলে মনে করছেন নির্মাতারা।
এ রকম ছবির ভাবনা কী ভাবে এল? পরিচালক আস্থার কথায়, ‘একটি স্বপ্ন থেকেই আক্ষরিক অর্থে ‘ড্রিমবোট’-এর জন্ম। কয়েক মাস ধরে সেই স্বপ্নের অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছি। তার পর তাকে চিত্রনাট্যের রূপ দিয়েছি। চেয়েছিলাম, ছবির জগৎ যেন দর্শকের কাছে পরিচিত মনে হয়। অথচ তার ভিতরে কাজ করে স্বপ্নের নিজস্ব যুক্তি। এক মহিলা শিল্পী এবং তাঁর মিউজ়— একটি বালিশের সম্পর্ককে ফ্যান্টাসির মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে চেয়েছি।’ প্রযোজক অমিত মাসুরকরেরও ছবিটির প্রতি আকর্ষণের কারণ এর ব্যতিক্রমী ভাবনা। তাঁর কথায়, ‘ছবির অভিনব বিষয়বস্তু এবং আস্থার তৈরি করা চিত্রনাট্য আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। ধরমশালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে ছবিটির উৎসব সফর শুরু করতে পেরে আমরা উত্তেজিত।’
ছবির মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন সোফিয়া আশরাফ। র্যাপার, শিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত সোফিয়ার প্রতিবাদী গান ‘কোডাইকানাল ওন্ট’ এক সময়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ‘ড্রিমবোট’-এর হাত ধরেই মুখ্য অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সুপ্রিয়া যোশী। তেনজিন দালহাকেও দেখা যাবে ছবিতে। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন ‘তেনজিং’ ছবিতে। রয়েছেন প্রেরক মেহতা, যিনি বিভিন্ন ওটিটি ধারাবাহিকে কাজ করে পরিচিতি গড়ে তুলছেন। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন মোজেস কৌল এবং গুরপাল সিং। চিত্রনাট্যকার হিসেবে ‘শেরনি’-তে কাজ করার পরে এ বার পরিচালনায় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে চান আস্থা। ২০২৭-এ তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। সেই লক্ষ্যে এগোনোর আগে ‘ড্রিমবোট’ তাঁর কেরিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
