চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই একটি আধুনিক ফুড ল্যাবের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নির্ভুল পরীক্ষা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল নগরবাসীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর মুরাদপুরের বিবিরহাট এলাকায় অবস্থিত চসিকের ফুড ল্যাবে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অফ আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট (IUPHPSP)’-এর আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল এজেন্ট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। উক্ত প্রকল্পের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ল্যাবটিতে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং দুইজন অপারেটরকে নবনিযুক্ত জনবল হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে মেয়র ল্যাবের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা, খাদ্য নমুনা সংরক্ষণ ও পরীক্ষার সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ল্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে মেশিনগুলোর ব্যবহারবিধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ বিলসহ সার্বিক পরিচালনাগত বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “এই ল্যাব যথাযথভাবে পরিচালিত হলে চট্টগ্রামবাসীর খাদ্যনিরাপত্তা অনেকাংশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফরমালিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে নিয়মিত পরীক্ষা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কাছে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে, এখন প্রয়োজন সেগুলোর সঠিক ও সুচারু ব্যবহার।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চসিকের এই ফুড ল্যাবটি কেবল জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্যই নয়, বরং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি রাজস্ব আয়ের একটি সম্ভাবনাময় উপার্জন খাত হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এর জন্য যন্ত্রপাতিগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল তৈরি অপরিহার্য।
ল্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মেয়র কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যালের মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ল্যাবের ইনভেন্টরি বা সামগ্রিক স্টক তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। খুব শীঘ্রই ল্যাবটি আধুনিকভাবে সাজিয়ে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের খাদ্য পরীক্ষার জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফকাত বিন আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব পাবলিক হেলথ প্রিভেনটিভ সারভিসেস প্রজেক্ট’-এর বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিষ্ট মো. এনামুল হক, মো. জাহিদ হোসেন এবং রিয়াল হাসানসহ প্রজেক্টের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
