

নেত্রকোনায় দূর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মনিজা খাতুন, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবুল খায়েরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজা মণ্ডপের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাগণ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জ্ঞানেশ চন্দ্র সরকার, সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পন্ডিত ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় করেন।
তেঁতুলিয়ায় কালো ধানের চাষ, কৃষিতে নতুন দিগন্তের হাতছানি
ধানের শীষ কালো! ব্যতিক্রমী এই ধান দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করছেন আগ্রহী মানুষ । উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের জায়গীরজোত এলাকায় কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধান। প্রচলিত ধানের বাইরে নতুন এই ধান আবাদ ঘিরে কৌতূহলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ফলন ও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে কালো ধান তেঁতুলিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম জানান, অনলাইনে কালো ধান চাষের বিষয় দেখে তিনি এ আবাদে আগ্রহী হন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে পাঁচশত টাকা কেজি বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো রং ধারণ করছে। ব্যতিক্রমী এই ধান দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাঁর কালো ধান ব্লাকরাইজ দেখতে আসছেন। শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম বলেন, “প্রথমে ধানের গাছ সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষের রং কালো হয়ে যায়। নিজের জমিতে এমন ব্যতিক্রমী ধান চাষ করতে পেরে ভালো লাগছে। ফলন ও লাভের সম্ভাবনা ভালো হলে ভবিষ্যতে আরও জমিতে কালো ধান চাষ করতে চাই।” শান্ত আরো বলেন শুনেছি এই ধানের চালের ভাত খেলে ডায়বেটিস রোগ প্রতিরোধ হয় । আমার বাবার ডায়বেটিস হয়েছে তাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে এই আবাদ করেছি। স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়ায় এর আগে এ ধরনের কালো ধানের চাষ তাঁরা দেখেননি। নতুন এই ধান দেখতে অনেকেই ধানক্ষেতের পাশে ভিড় করছেন। একই সঙ্গে এর চাষপদ্ধতি, ফলন সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করছে । কৃষি-সংশ্লিষ্টরা জানান, কালো চাল পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। প্রচলিত চালের তুলনায় এর বাজারমূল্যও সাধারণত বেশি হতে পারে। তবে এ ধানের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের আগে উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির নিশ্চয়তা যাচাই করা জরুরি। উৎপাদন বাড়লে বাজারদরে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা কালো ধানের ফলন এবং কৃষকের লাভ-ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চাষ লাভজনক প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তেঁতুলিয়ায় এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।” শাহজান আলী বলেন এই কালো ধান এত সুন্দর আবাদ হয়েছে, আগে জানলে আমিও করতাম। সামনের সিজনে অবশ্যই কালো আবাদ করবো। ডাবলু বলেন আমি কালো ধান আবাদের কথা শুনে দেখতে এসেছি। অনেক সুন্দর দেখতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন , পরীক্ষামূলক এই আবাদ সফল হলে তেঁতুলিয়ার কৃষিতে নতুন ফসল হিসেবে কালো ধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের চাহিদা যাচাই করে কৃষকদের জন্য উপযোগী চাষপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।

নাচোলে এমপি মিজানুর রহমানের গণসংযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা পরিচালনা করেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এ দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ১৮ অক্টোবর বিকেলে তিনি ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজার, পাহাড়পুর বাজার, শানপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং স্থানীয়দের নানা পরামর্শ শোনেন। এসময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রভাষক ইয়াকুব আলী, ফতেপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা রইসুদিন । পরবর্তী পথসভা ও মতবিনিময় সভায় এমপি ড. মিজানুর রহমান এলাকার মুরুব্বি, তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের নানা দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি এলাকাভিত্তিক এসব সার্বিক সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রদান করেন। বক্তব্যে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, "আগামীর বাংলাদেশকে মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে একমাত্র বর্তমান যুবসমাজ।" এ জন্য তিনি তরুণদের দুর্নীতি ও অপরাধকে 'না' বলে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনের শপথ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। মাদকের ভয়াবহ পরিণতি উল্লেখ করে এমপি মিজানুর রহমান আরও বলেন, "মাদকের বিস্তার রোধে প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে এবং প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।" মাদকের সাথে সম্পৃক্ত কারবারিদের প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি সর্বস্তরে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। উক্ত গণসংযোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ারিশ সনদে তথ্য গোপন করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা, থানায় এজাহার
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ দিয়ে জমি নামজারির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূমি প্রতারণার অভিযোগে ডামুড্যা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন মজিদ বেপারী (৭৫) নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে ইসলামপুর ইউনিয়নের এক নারী ওয়ার্ড সদস্যসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। থানায় দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দাড়াইশকাটি গ্রামের মজিদ বেপারীর ছেলে ছোরাব বেপারী প্রায় সাত বছর আগে মারা যান। বাবার দাবি অনুযায়ী, ছোরাব বেপারীর নামে তিনটি দলিলে মোট ৭.৫০ শতাংশ জমি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর বাবা-মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে—মোট সাতজন উত্তরাধিকারী হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বকুলা বেগম নামে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। এতে ছোরাব বেপারীর বাবা মজিদ বেপারী ও স্ত্রী কুনছুমা বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ৭১ নম্বর স্মারকমূলে দেওয়া ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ পড়ে। ওই সনদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে নামজারি করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন মজিদ বেপারী। এতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছেলের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। এজাহারে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুবিনা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক বা একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি করা সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্যামনগরে দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মনিরুজ্জামান
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত দুর্গা পূজার মন্ডপ পরিদর্শন সহ পূজা উৎযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় করলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। রোববার (১৮ অক্টোবর)উপজেলার আটুলিয়া ইউপির দক্ষিণ বড় কুপট নদীর পাড় সার্ব জনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, দক্ষিণ বড় কুপট শিব মিলন দুর্গা মন্দির, নওয়াবেঁকী সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, আটুলিয়া আদু মন্ডল বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ সহ অন্যান্য দুর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড.মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় তিনি মন্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও পূজার আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন ও সনাতন ধর্মালম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সোলায়মান কবীর,যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ,বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় যুবদলের মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি,পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শেখ লিয়াকত আলী বাবু সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পূজা মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, সাত ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর শিমুল হোসেন (৩৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদী থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিমুল হোসেন আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের গাংপাড়ার বাসিন্দা কলিম উদ্দিন গাইনের একমাত্র ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১টার দিকে বাড়ির পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামেন শিমুল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও খোঁজাখুঁজিতে যোগ দেন। প্রায় সাত ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


