তাঁর ঘরের ভেতরে রয়েছে একটি নড়বড়ে শোয়ার চৌকি, মাটির চুলা, কিছু হাঁড়ি-পাতিল ও থালাবাসন, মরিচা ধরা একটি বাক্স, একটি র্যাক এবং দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা কয়েকটি কাপড়। ঘরটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানে নিরাপদে বসবাস করাও কঠিন। তার ওপর নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা।
প্রতিবেশী নয়ন, বিজয়, রাব্বি, আরিফ, বাবু ও নাজমুল জানান, দুক্ষাতি বেওয়া অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাঁর কোনো ফসলি জমি নেই, নেই বসতভিটার জমিও। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিয়মিত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করাও তাঁর জন্য কঠিন। কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেও দিন কাটাতে হয় তাঁকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুক্ষাতি বেওয়ার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সহায়তার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে দুক্ষাতি বেওয়ার আকুতি, জীবনের শেষ সময়ে অন্তত একটি নিরাপদ ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই যেন তাঁর হয়। একটি ছোট ঘর পেলে বাকি জীবন কিছুটা নিরাপদে কাটাতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুক্ষাতি বেওয়া সরকারি ঘর পাওয়ার উপযুক্ত দাবিদার। তাঁকে ঘর দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. জেলাল আহম্মদ রানা অসহায় এই নারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য কুড়িগ্রাম জেলার সচেতন নাগরিক, নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হাসনাবাদ ইউনিয়নের সচেতন মানুষ এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দুক্ষাতি বেওয়ার জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
The post নাগেশ্বরীর হাসনাবাদে ভূমিহীন প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়ার মানবেতর জীবন, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই appeared first on ভোরের চেতনা.
